পানি কমছে দেশের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে। বর্ষা মৌসুম চললেও প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক এলাকায় পানির স্তর কমে গেছে। এতে কৃষিকাজ, মৎস্যসম্পদ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।পানি কমে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। ফলে আমনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
নদী ও জলাশয়ে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। এতে মাছের উৎপাদন কমার পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশবিদরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে পানির সংকটের কারণে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত পানি ব্যবহার এবং নদী দখল-দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই পানি সংরক্ষণ, নদী রক্ষা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার ওপর এখনই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে পানির সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


























