ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী Logo সিরাজগঞ্জ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ Logo রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ Logo কলেরা টিকা নিয়ে স্বস্তি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সাড়া Logo এআই দিয়ে এআই নিয়ন্ত্রণে বড় সতর্কবার্তা Logo গাজীপুর মহানগর পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ Logo যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রুক্মিণী বসন্ত। Logo নেপালের দুর্যোগে আটকা তাসরিফ খান, ২ দিনেও দেশে ফেরা হয়নি Logo মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর Logo ‘দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’, শৈশব নিয়ে ফারিণের মায়াময় কথা

তিস্তার পানি বাড়ছেই, বন্যার ঝুঁকিতে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাটসহ তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে চরাঞ্চল, নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টায় পানির উচ্চতা আরও বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরেই নদীর পানি ওঠানামা করছিল। তবে উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানির চাপ দ্রুত বাড়ছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, ব্যারাজে পানি বাড়লে তাদের এলাকায়ও রাতের মধ্যেই পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাতীবান্ধার গড্ডিমারী এলাকার রহমত আলী। তিনি বলেন, বিকেল থেকেই রাস্তাঘাটে পানি উঠতে শুরু করেছে।

নদী তীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী মেরামত স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী

তিস্তার পানি বাড়ছেই, বন্যার ঝুঁকিতে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল

Update Time : ১১:২০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাটসহ তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে চরাঞ্চল, নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকতে শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টায় পানির উচ্চতা আরও বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছায়।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরেই নদীর পানি ওঠানামা করছিল। তবে উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পানির চাপ দ্রুত বাড়ছে। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, ব্যারাজে পানি বাড়লে তাদের এলাকায়ও রাতের মধ্যেই পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন হাতীবান্ধার গড্ডিমারী এলাকার রহমত আলী। তিনি বলেন, বিকেল থেকেই রাস্তাঘাটে পানি উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে দু'বছরের শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে তেলবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে পিতার দুই পায়ের গোড়ালি আর পাতা এবং হাতের পাঁচটি আঙ্গুল কাটা পড়েছে এবং মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত

নদী তীরবর্তী মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। পানি বাড়লেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী মেরামত স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

আরও পড়ুন  গরিবের ডাক্তার সামির হোসেন মিশু গ্রেপ্তার

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।