তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলে তীব্র বন্যা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীটি এখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। যা ওই পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পাউবো।
পানির প্রচণ্ড চাপ সামলাতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট একসঙ্গে খুলে রাখা হয়েছে। ফলে হু হু করে পানি ভাটির দিকে নামায় ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাইসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন সামান্য ঢল নামলেই নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নিয়মিত নদীখনন ও ড্রেজিং করা না হলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।
বর্তমানে মাঠে বড় কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ক্ষতি না হলেও নদী তীরবর্তী এলাকার পুকুর, সবজি চাষাবাদ, গবাদিপশু এবং নিজেদের বসতভিটা রক্ষা করা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে বন্যা পূর্বাভাস মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছে।
























