ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সংশোধনী চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর কোদালেরঘাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী এক ঘন্টার মধ্যে আটক Logo বাংলাদেশ হকি দলের প্রস্তুতি: জার্মানি অনিশ্চিত, চীন-মিসরে নতুন পরিকল্পনা Logo ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট: সুতারের দুর্দান্ত ১০ উইকেটে ভারতের স্মরণীয় জয় Logo চন্দ্রনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রীর হাত থেকে ফল নিচ্ছে বানর Logo ১২ দিনে ৮ জন গুলিবিদ্ধ: বেগমগঞ্জে আতঙ্ক, অধরা অস্ত্রধারীরা Logo চন্দনাইশে কোদালের আঘাতে স্ত্রী খুন, স্বামী আটক Logo ন্যাড়া মাথায় নয়নতারা! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য কী Logo ‘মিথ্যা সাময়িক, সত্য চিরস্থায়ী’—মাত্র পাঁচ শব্দের পোস্ট শাবনূরের। Logo পূজা চেরির বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন কেন? এবার স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী Logo ক্যাপ, রোদচশমা আর কালো ক্যাজুয়াল পোশাকে অপু বিশ্বাসের লুক নজর কেড়েছে সবার

চন্দ্রনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রীর হাত থেকে ফল নিচ্ছে বানর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

চন্দ্রনাথের বানর তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে ফল খায়। ছবি: সংগৃহীত

চন্দ্রনাথের বানর এখন সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে আসা তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের বেশ আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে। মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা দুটি বানর মানুষের কাছ থেকে ফল নেয়। মুঠোফোন হাতে ছবি তুলতে কেউ কাছে গেলে তারাও এগিয়ে আসে। তবে ছবি তোলার পর খাবার না পেলে কখনো কখনো তাদের আচরণ বদলে যায়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে মন্দিরটির অবস্থান। সেখানে পূজা দিতে আসা অনেক তীর্থযাত্রী সঙ্গে করে বিভিন্ন ধরনের ফল নিয়ে আসেন। বানর দুটি দূর থেকে অপেক্ষা করে সুযোগ বুঝে কাছে এসে মানুষের হাত থেকে ফল নিয়ে যায়। আপেল, কলাসহ বিভিন্ন ফল খেতে দেখা যায় তাদের।

গত শনিবার মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক তীর্থযাত্রী বানর দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ ছবি তোলার পাশাপাশি তাদের ফলও দিচ্ছেন। খাবার হাতে দেখলেই বানর দুটি মানুষের কাছে চলে আসে। ফল নেওয়ার পর আবার মন্দিরের ছাদ কিংবা আশপাশের গাছে গিয়ে বসে খাবার খায়।

তবে শুধু ছবি তোলার জন্য কাছে গিয়ে খাবার না দিলে কখনো বানরগুলোকে বিরক্ত হতে দেখা যায়। এতে কিছু দর্শনার্থী ভয়ও পান। এক তীর্থযাত্রী জানান, তার হাত থেকে একটি বানর আপেল নেওয়ার পর বেশ শান্তভাবেই কাছে বসেছিল। কিন্তু এর আগে এক ব্যক্তি খাবার না দিয়ে ছবি তুলতে গেলে বানরটি তাকে ভয় দেখিয়েছিল।

মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল জানান, দুটি বানর দীর্ঘদিন ধরে মন্দির এলাকায় অবস্থান করছে। তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত ফল খায়। তার মতে, আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় খাবারের সংকট দেখা দিলে বানরগুলো মানুষের কাছাকাছি চলে আসে। তবে সাধারণভাবে তারা কাউকে অকারণে বিরক্ত করে না।

স্থানীয় পূজারি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় আরও অনেক বানর দলবেঁধে মন্দির এলাকায় আসে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় খাবার কমে গেলে তাদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তবে এই দুটি বানর প্রায় সারা বছরই মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা যায়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের আশপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সেখানে বাঁশ, কলাসহ নানা ধরনের গাছপালা ও লতাগুল্ম জন্মে। এসব বনভূমিতে বানরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বন্য শূকর, হরিণ, অজগর ও নানা ধরনের সরীসৃপেরও বসবাস রয়েছে।

তবে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি আসে বানরই। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় থাকা চা-দোকান ও পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশেও তাদের দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে তারা কখনো কখনো লোকালয়ে চলে আসে। তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরাও ভালোবেসে তাদের খাবার দেন।

চন্দ্রনাথ মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের সবুজ পাহাড়, উপত্যকা এবং দূরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেখা যায়। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানো বানরগুলোও পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

তবে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে ছবি তোলার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। খাবার দেখিয়ে তাদের খুব কাছে যাওয়া বা জোর করে স্পর্শ করার চেষ্টা করলে প্রাণীটি ভয় পেতে কিংবা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই চন্দ্রনাথের বানর দেখতে গেলে আনন্দের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংশোধনী চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর কোদালেরঘাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী এক ঘন্টার মধ্যে আটক

চন্দ্রনাথ মন্দিরে তীর্থযাত্রীর হাত থেকে ফল নিচ্ছে বানর

Update Time : ০২:০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চন্দ্রনাথের বানর এখন সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে আসা তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের বেশ আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে। মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা দুটি বানর মানুষের কাছ থেকে ফল নেয়। মুঠোফোন হাতে ছবি তুলতে কেউ কাছে গেলে তারাও এগিয়ে আসে। তবে ছবি তোলার পর খাবার না পেলে কখনো কখনো তাদের আচরণ বদলে যায়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে মন্দিরটির অবস্থান। সেখানে পূজা দিতে আসা অনেক তীর্থযাত্রী সঙ্গে করে বিভিন্ন ধরনের ফল নিয়ে আসেন। বানর দুটি দূর থেকে অপেক্ষা করে সুযোগ বুঝে কাছে এসে মানুষের হাত থেকে ফল নিয়ে যায়। আপেল, কলাসহ বিভিন্ন ফল খেতে দেখা যায় তাদের।

গত শনিবার মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক তীর্থযাত্রী বানর দুটির সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ ছবি তোলার পাশাপাশি তাদের ফলও দিচ্ছেন। খাবার হাতে দেখলেই বানর দুটি মানুষের কাছে চলে আসে। ফল নেওয়ার পর আবার মন্দিরের ছাদ কিংবা আশপাশের গাছে গিয়ে বসে খাবার খায়।

আরও পড়ুন  ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে ঢাকার রাস্তায় মা আফরোজার কঠিন লড়াই

তবে শুধু ছবি তোলার জন্য কাছে গিয়ে খাবার না দিলে কখনো বানরগুলোকে বিরক্ত হতে দেখা যায়। এতে কিছু দর্শনার্থী ভয়ও পান। এক তীর্থযাত্রী জানান, তার হাত থেকে একটি বানর আপেল নেওয়ার পর বেশ শান্তভাবেই কাছে বসেছিল। কিন্তু এর আগে এক ব্যক্তি খাবার না দিয়ে ছবি তুলতে গেলে বানরটি তাকে ভয় দেখিয়েছিল।

মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল জানান, দুটি বানর দীর্ঘদিন ধরে মন্দির এলাকায় অবস্থান করছে। তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত ফল খায়। তার মতে, আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় খাবারের সংকট দেখা দিলে বানরগুলো মানুষের কাছাকাছি চলে আসে। তবে সাধারণভাবে তারা কাউকে অকারণে বিরক্ত করে না।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে শেষ হলো জল্পনা

স্থানীয় পূজারি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় আরও অনেক বানর দলবেঁধে মন্দির এলাকায় আসে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় খাবার কমে গেলে তাদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তবে এই দুটি বানর প্রায় সারা বছরই মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা যায়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের আশপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সেখানে বাঁশ, কলাসহ নানা ধরনের গাছপালা ও লতাগুল্ম জন্মে। এসব বনভূমিতে বানরের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বন্য শূকর, হরিণ, অজগর ও নানা ধরনের সরীসৃপেরও বসবাস রয়েছে।

তবে মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি আসে বানরই। পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় থাকা চা-দোকান ও পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশেও তাদের দেখা যায়। খাবারের সন্ধানে তারা কখনো কখনো লোকালয়ে চলে আসে। তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরাও ভালোবেসে তাদের খাবার দেন।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে রাতভর বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ৩ জন

চন্দ্রনাথ মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের সবুজ পাহাড়, উপত্যকা এবং দূরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দেখা যায়। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানো বানরগুলোও পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।

তবে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে ছবি তোলার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। খাবার দেখিয়ে তাদের খুব কাছে যাওয়া বা জোর করে স্পর্শ করার চেষ্টা করলে প্রাণীটি ভয় পেতে কিংবা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই চন্দ্রনাথের বানর দেখতে গেলে আনন্দের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখা উচিত।