বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রতীক্ষার পর উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই শহর বগুড়া পৌরসভা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টায় বগুড়া সফরে এসে তারেক রহমান পৌর ভবনে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এরপর তিনি পৌরসভা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বগুড়াকে এখন একটি পরিচ্ছন্ন ও মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রশাসন সহযোগিতা করবে, তবে নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বগুড়া শহরের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বগুড়া উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এই শহর দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে নগর সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল।
ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌর প্রতিষ্ঠান। সময়ের সাথে এর পরিধি বৃদ্ধি পেলেও উন্নয়ন কাঠামো সীমিত ছিল। ২০০৬ সালে ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে পৌর এলাকার আয়তন বাড়ানো হয়, যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার।
এই বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন বাস্তবায়নের মাধ্যমে এখন শহরটিতে বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলো। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ।
স্থানীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহল এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই উন্নয়ন উদ্যোগের ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি শহরের দীর্ঘদিনের যানজট, জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের পথও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বগুড়া এখন একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে নাগরিক ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে এটি একটি আধুনিক শহরে রূপ নিতে পারবে।



























