ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আভাস Logo স্বর্ণের দাম বাড়ল, নতুন দামে চমক Logo আর্জেন্টিনার বাড়ি বানিয়ে সেরা চমক: বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ের পিঁড়িতে ৪০ বছরের শামিম! Logo আলিয়ার শুটিং সেট দুর্ঘটনা: ভয়াবহ ঘটনায় নিহত ১ কর্মী Logo বারহাট্টায় বন্যা সহায়তা তালিকায় সেরা দুর্নীতি: বাদ পড়ল ২২৪৯ প্রকৃত কৃষক! Logo সরকারি সফরে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। Logo ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সাভারের প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে Logo মিয়ানমারে নির্বাচনের আড়ালে সহিংসতা, সেনাবাহিনীর হাতে নিহত শত শত মানুষ Logo শিল্প-সাহিত্যপ্রেমী আবদুস সাদেক Logo মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

পদ্মা ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে নদীপাড়ের বসতি। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ভাঙন আতঙ্ক এখন ফরিদপুরের নদীতীরবর্তী মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক শ একর ফসলি জমি এবং একাধিক বসতভিটা। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের ভাঙনের তীব্রতা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড় ধসে পড়ছে দ্রুতগতিতে। ভাঙনের আওয়াজ শুনেই অনেক পরিবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে নিজেদের বাড়িঘর। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ির টিন, কাঠ ও মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, গত প্রায় দুই দশক ধরে প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ এলাকা। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে। কারও জমি গেছে নদীগর্ভে, আবার কেউ হারিয়েছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি।

চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল এখন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ভাঙনের কারণে সেই জমিই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে পরিবার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয় নিয়ে দিন কাটছে। এবারও ভাঙন বাড়তে থাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ ও খায়রুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তুলছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. হাসেম জানান, এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনের কারণে তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। নদীর পাড় থেকে অল্প দূরত্বে থাকা তাদের বাড়িটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

একই এলাকার শিল্পী আক্তার বলেন, প্রতিবার ভাঙনের সময় নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। নদীতে যদি এবারও বাড়ি চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা তিনি জানেন না।

বর্তমানে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কয়েক শ বসতবাড়ি, হাজারো একর কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ইটভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা।

ভাঙন রোধে অতীতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে কিছু বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ভাঙনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে নর্থচ্যানেল এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। গত বছর ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। এবারও যেসব স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ভাঙনের প্রকৃতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে যাতে ভাঙনের কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সমস্যা। বিশেষ করে পদ্মার মতো বড় নদীগুলো বর্ষাকালে প্রবল স্রোত ও পানির চাপে তীরভূমি ক্ষয় করে। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয় এবং নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়।

তাদের মতে, শুধু জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই হতে পারে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত নদী পর্যবেক্ষণও জরুরি।

এদিকে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটানো পরিবারগুলোর একটাই দাবি—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা। তারা চান না আবারও ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকার উৎস হারিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তার জীবন শুরু করতে।

পদ্মা ভাঙন আতঙ্ক এখন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি হাজারো মানুষের জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় মানবিক সংকট। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আভাস

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

Update Time : ০৮:১৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

পদ্মা ভাঙন আতঙ্ক এখন ফরিদপুরের নদীতীরবর্তী মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে আবারও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কয়েক দিনের ব্যবধানে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক শ একর ফসলি জমি এবং একাধিক বসতভিটা। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের ভাঙনের তীব্রতা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাড় ধসে পড়ছে দ্রুতগতিতে। ভাঙনের আওয়াজ শুনেই অনেক পরিবার রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে নিজেদের বাড়িঘর। কেউ কেউ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ির টিন, কাঠ ও মূল্যবান জিনিসপত্র খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, গত প্রায় দুই দশক ধরে প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ এলাকা। অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে। কারও জমি গেছে নদীগর্ভে, আবার কেউ হারিয়েছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি।

চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমে ফলানো ফসল এখন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ভাঙনের কারণে সেই জমিই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে পরিবার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ৫ দিনের পূর্বাভাস জানাল আবহাওয়া অফিস

স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, সেই ভয় নিয়ে দিন কাটছে। এবারও ভাঙন বাড়তে থাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ ও খায়রুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তুলছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গী এলাকার বাসিন্দা মো. হাসেম জানান, এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনের কারণে তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তারা। নদীর পাড় থেকে অল্প দূরত্বে থাকা তাদের বাড়িটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

একই এলাকার শিল্পী আক্তার বলেন, প্রতিবার ভাঙনের সময় নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়। নদীতে যদি এবারও বাড়ি চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা তিনি জানেন না।

বর্তমানে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কয়েক শ বসতবাড়ি, হাজারো একর কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ইটভাটাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন  সকালেই ১৯ জেলায় ঝড়ের আশঙ্কা, ৮০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া

ভাঙন রোধে অতীতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে কিছু বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ভাঙনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে নর্থচ্যানেল এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। গত বছর ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল। এবারও যেসব স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে, সেখানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ভাঙনের প্রকৃতি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

তিনি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে যাতে ভাঙনের কারণে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সমস্যা। বিশেষ করে পদ্মার মতো বড় নদীগুলো বর্ষাকালে প্রবল স্রোত ও পানির চাপে তীরভূমি ক্ষয় করে। ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয় এবং নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়।

তাদের মতে, শুধু জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই হতে পারে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নিয়মিত নদী পর্যবেক্ষণও জরুরি।

এদিকে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটানো পরিবারগুলোর একটাই দাবি—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা। তারা চান না আবারও ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকার উৎস হারিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তার জীবন শুরু করতে।

পদ্মা ভাঙন আতঙ্ক এখন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়; এটি হাজারো মানুষের জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বড় মানবিক সংকট। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।