আর্জেন্টিনা বাড়ি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়েছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাসিন্দা শামিম হোসেন। পেশায় স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মচারী প্রিয় ফুটবল দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে নিজের তিনটি বসতবাড়িকে আকাশি-সাদা রঙে রাঙিয়ে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। দেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বরাবরই তরুণদের এমন ক্রীড়াপ্রেমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে।
জোড়াদহ গ্রামের এই মেসি ভক্ত নিজের তিনটি বাড়ির দেয়াল, আঙিনা এমনকি ওয়াশরুম পর্যন্ত প্রিয় দলের পতাকার রঙে সাজিয়ে নাম দিয়েছেন ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’। শুধু তাই নয়, দেশপ্রেমের অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রতিটি বাড়ির ছাদেই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও অত্যন্ত সম্মানের সাথে টাঙিয়ে রেখেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তার এই বর্ণিল আয়োজন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমাচ্ছেন।
এই আর্জেন্টিনা বাড়ি সাজানোর পেছনে শামিমের প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যা জোগাড় করতে তিনি নিজের জমি ও গাছ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তবে এর চেয়েও বড় যে চমক তিনি দিয়েছেন, তা হলো ৪০ বছর পার হয়ে গেলেও প্রিয় দল বিশ্বকাপ না জেতা পর্যন্ত তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না। দল যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বসেরার মুকুট জেতে, তবেই তিনি ধুমধাম করে বিয়ে করবেন এবং পুরো গ্রামবাসীকে বিশাল ভোজ খাওয়াবেন।
বিগত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও শামিম নিজের ঘর সাজিয়েছিলেন, তবে এবারের ফুটবল উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও বড় পরিসরে তিনটি বাড়ি রাঙিয়ে এলাকায় তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। মানুষ এসে তার এই কাজ দেখছে এবং ছবি তুলছে, এতেই তিনি পরম আনন্দ ও মানসিক তৃপ্তি পাচ্ছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এই ফুটবল উন্মাদনা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বা বাফুফের দেশীয় ফুটবল প্রসারের লক্ষ্যকেও ভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করে।
স্থানীয় প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম জানান, শামিমের মতো এত বড় এবং একনিষ্ঠ ফুটবল ভক্ত তারা এর আগে কখনো দেখেননি। নিজের শেষ সম্বল বিক্রি করে ফুটবল দলের প্রতি এমন পাগলামি আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ আসলেই বিরল এবং পুরো জেলার জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয়। ফুটবলকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
শামিমের এই অদ্ভুত শর্ত এবং দৃষ্টিনন্দন আর্জেন্টিনা বাড়ি এখন জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রিয় দলের শিরোপা জয়ের রাজকীয় স্বপ্ন এবং শামিমের জীবনের নতুন ইনিংস শুরু হওয়ার প্রতীক্ষায় এখন অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন পুরো হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।





























