ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বারহাট্টায় বন্যা সহায়তা তালিকায় সেরা দুর্নীতি: বাদ পড়ল ২২৪৯ প্রকৃত কৃষক!

উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বারহাট্টায় বন্যা সহায়তা বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা সরকারি তালিকা নিয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শুরু থেকেই তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করলেও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি বড় অংশকে রহস্যজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোনা জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, এই উপজেলায় প্রতিবছরই বন্যায় কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্যাদুর্গত এলাকায় নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষকের এই প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে অনেক প্রভাবশালী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই জালিয়াতির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

এদিকে মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, তারা সততার সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তথ্য জমা দিলেও চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পেয়েছেন তা তারা জানেন না। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের এই নীরবতা সাধারণ কৃষকদের মনে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিতর্কিত তালিকার কারণে এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায় যে সরকারি সাহায্য প্রদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, তবে উপজেলা প্রশাসন এই তথ্যটি নাকচ করে দিয়েছে। বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার জানিয়েছেন যে, ঢাকা থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসার পর আগামীকাল থেকেই পুনরায় চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, তালিকায় নাম পরিবর্তন এখন কঠিন হলেও বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকা দ্রুত পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করলে সরকারি এই মহৎ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যাহত হবে। যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ত্রাণ বিতরণ করা হলে তা গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকেরা অনতিবিলম্বে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ত্রাণ বিতরণের এই অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের ভেতরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধন করা এখন সময়ের দাবি। দেশের কৃষি মন্ত্রণালয়-এর নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই যেন এই বরাদ্দ পান, সেটাই এখন বারহাট্টার সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বারহাট্টায় বন্যা সহায়তা তালিকায় সেরা দুর্নীতি: বাদ পড়ল ২২৪৯ প্রকৃত কৃষক!

Update Time : ০৯:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বারহাট্টায় বন্যা সহায়তা বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা সরকারি তালিকা নিয়ে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় শুরু থেকেই তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করলেও চূড়ান্ত তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি বড় অংশকে রহস্যজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নেত্রকোনা জেলা তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, এই উপজেলায় প্রতিবছরই বন্যায় কৃষিপণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্যাদুর্গত এলাকায় নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে ২ হাজার ২৪৯ জন কৃষকের এই প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে অনেক প্রভাবশালী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই জালিয়াতির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-পাকিস্তান মাদক পাচার প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগ ও সমঝোতা

এদিকে মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, তারা সততার সাথে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তথ্য জমা দিলেও চূড়ান্ত তালিকায় কারা স্থান পেয়েছেন তা তারা জানেন না। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কৃষি বিভাগের এই নীরবতা সাধারণ কৃষকদের মনে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুন  এমপি আমির হামজার পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, জীবননগরে উত্তেজনা

বিতর্কিত তালিকার কারণে এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায় যে সরকারি সাহায্য প্রদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, তবে উপজেলা প্রশাসন এই তথ্যটি নাকচ করে দিয়েছে। বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিনা আক্তার জানিয়েছেন যে, ঢাকা থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসার পর আগামীকাল থেকেই পুনরায় চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, তালিকায় নাম পরিবর্তন এখন কঠিন হলেও বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, এই ত্রুটিপূর্ণ তালিকা দ্রুত পুনঃযাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করলে সরকারি এই মহৎ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যাহত হবে। যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ত্রাণ বিতরণ করা হলে তা গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকেরা অনতিবিলম্বে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন  এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য কার্যকর

ত্রাণ বিতরণের এই অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের ভেতরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকৃত কৃষকদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত তালিকা সংশোধন করা এখন সময়ের দাবি। দেশের কৃষি মন্ত্রণালয়-এর নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই যেন এই বরাদ্দ পান, সেটাই এখন বারহাট্টার সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা।