ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের Logo ১৮ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ টোটালি পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি : ব্যারিস্টার বাদল Logo উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি Logo সঞ্চয়পত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা Logo বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডে ১৬৭ পদে নিয়োগ, আবেদন চলছে Logo যমজ কন্যা জন্মের পর তালাক, শেষমেশ স্ত্রীকে ঘরে নিলেন স্বামী Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে, গুরুত্ব পেল বৈশ্বিক অর্থনীতি Logo হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে ইসলামের কঠোর সতর্কতা ও বিধান Logo ত্রিশের পর সন্তান নিলে কি ঝুঁকি বাড়ে? জানালেন বিশেষজ্ঞ Logo মহররমের ফজিলত ও আমল: আশুরার রোজা ও ইবাদতের গুরুত্ব

ত্রিশের পর সন্তান নিলে কি ঝুঁকি বাড়ে? জানালেন বিশেষজ্ঞ

ক্যারিয়ার ও জীবনের লক্ষ্য পূরণে অনেক নারী পিছিয়ে দিচ্ছেন মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত।

বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার গঠন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিকল্পনার কারণে অনেক নারী আগের তুলনায় দেরিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে ৩০ বছরের পর মাতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ পেরোলেই সন্তান নেওয়া অসম্ভব হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর প্রজনন সক্ষমতায় কিছু পরিবর্তন আসে, যা সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।

বয়স ও মাতৃত্ব নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ৩০ বছর পার হলেই গর্ভধারণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ ভাবেন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি থাকায় বয়স কোনো বিষয়ই নয়। চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবতা এই দুই ধারণার মাঝামাঝি। বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, হরমোনের ভারসাম্য এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বয়স বাড়লে কেন কমে উর্বরতা?

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের গাইনোকোলজিস্ট ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিকা খান্না জানান, নারীরা জন্মের সময়ই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে নতুন ডিম্বাণু তৈরি হয় না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে যাওয়ার কারণে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। ফলে বয়স যত বাড়ে, স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের সুযোগও তত কমে আসে।

গর্ভধারণের সম্ভাবনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী—

  • ২০ বছরের শুরুর দিকে প্রতি মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
  • ৩০ বছরের পর থেকে এই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
  • ৩৫ বছরের পর উর্বরতা কমার হার আরও দ্রুত হয়।
  • ৪০ বছর বয়সে প্রতি মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৫ শতাংশে নেমে আসে।

তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, এটি গড় পরিসংখ্যান। অনেক নারী ৩০ বা ৩৫ বছরের পরও স্বাভাবিকভাবে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন।

আইভিএফ কি বয়সজনিত সমস্যার সমাধান?

বর্তমানে সন্তান নিতে দেরি হলে অনেক দম্পতি আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের কথা বিবেচনা করেন। এটি এমন একটি আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে নারীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুকে শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করা হয়। পরে তৈরি হওয়া ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অনেকের ধারণা, আইভিএফ করালে বয়সের প্রভাব আর থাকে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ আইভিএফের সফলতাও অনেকাংশে নারীর বয়স ও ডিম্বাণুর গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে।

বয়সভেদে আইভিএফ সফলতার হার

বিভিন্ন গবেষণা ও চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী আইভিএফের মাধ্যমে জীবিত সন্তান জন্মের হার বয়স অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

  • ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সে সফল জন্মের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ।
  • ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সে তা কমে প্রায় ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়।
  • ৪০ থেকে ৪৪ বছর বয়সে সফলতার হার নেমে আসে প্রায় ১১ শতাংশে।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে আইভিএফ অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা করলেও বয়সজনিত প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগেভাগে প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো—

  • এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে।
  • বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে এবং ছয় মাস চেষ্টা করেও সফল না হলে।
  • মাসিক অনিয়মিত হলে।
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্যান্য প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে।
  • পুরুষ বা নারীর উর্বরতা নিয়ে পূর্ববর্তী কোনো জটিলতা থাকলে।

পরিকল্পিত মাতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, ৩০ বছরের পর মাতৃত্ব মানেই ঝুঁকি বা সমস্যা—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজনন সক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। যারা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক তথ্য ও সচেতন পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক নারীই ৩০ বছরের পর সফলভাবে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করছেন। তাই অযথা ভয় না পেয়ে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের

ত্রিশের পর সন্তান নিলে কি ঝুঁকি বাড়ে? জানালেন বিশেষজ্ঞ

Update Time : ০৪:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার গঠন এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিকল্পনার কারণে অনেক নারী আগের তুলনায় দেরিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে ৩০ বছরের পর মাতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ পেরোলেই সন্তান নেওয়া অসম্ভব হয়ে যায়—এমন ধারণা ভুল। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর প্রজনন সক্ষমতায় কিছু পরিবর্তন আসে, যা সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।

বয়স ও মাতৃত্ব নিয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ৩০ বছর পার হলেই গর্ভধারণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ ভাবেন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি থাকায় বয়স কোনো বিষয়ই নয়। চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবতা এই দুই ধারণার মাঝামাঝি। বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এটি একমাত্র কারণ নয়। সামগ্রিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, হরমোনের ভারসাম্য এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বয়স বাড়লে কেন কমে উর্বরতা?

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের গাইনোকোলজিস্ট ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ ডা. মনিকা খান্না জানান, নারীরা জন্মের সময়ই নির্দিষ্ট সংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে নতুন ডিম্বাণু তৈরি হয় না। বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ডিম্বাণুর গুণগত মান কমে যাওয়ার কারণে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। ফলে বয়স যত বাড়ে, স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের সুযোগও তত কমে আসে।

গর্ভধারণের সম্ভাবনা কীভাবে পরিবর্তিত হয়?

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী—

  • ২০ বছরের শুরুর দিকে প্রতি মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
  • ৩০ বছরের পর থেকে এই সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
  • ৩৫ বছরের পর উর্বরতা কমার হার আরও দ্রুত হয়।
  • ৪০ বছর বয়সে প্রতি মাসে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৫ শতাংশে নেমে আসে।

তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, এটি গড় পরিসংখ্যান। অনেক নারী ৩০ বা ৩৫ বছরের পরও স্বাভাবিকভাবে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন।

আইভিএফ কি বয়সজনিত সমস্যার সমাধান?

বর্তমানে সন্তান নিতে দেরি হলে অনেক দম্পতি আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের কথা বিবেচনা করেন। এটি এমন একটি আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে নারীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুকে শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করা হয়। পরে তৈরি হওয়া ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অনেকের ধারণা, আইভিএফ করালে বয়সের প্রভাব আর থাকে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ আইভিএফের সফলতাও অনেকাংশে নারীর বয়স ও ডিম্বাণুর গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে।

বয়সভেদে আইভিএফ সফলতার হার

বিভিন্ন গবেষণা ও চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী আইভিএফের মাধ্যমে জীবিত সন্তান জন্মের হার বয়স অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

  • ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সে সফল জন্মের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ।
  • ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সে তা কমে প্রায় ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়।
  • ৪০ থেকে ৪৪ বছর বয়সে সফলতার হার নেমে আসে প্রায় ১১ শতাংশে।

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে আইভিএফ অনেক ক্ষেত্রে সহায়তা করলেও বয়সজনিত প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আগেভাগে প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো—

  • এক বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে।
  • বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে এবং ছয় মাস চেষ্টা করেও সফল না হলে।
  • মাসিক অনিয়মিত হলে।
  • পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্যান্য প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে।
  • পুরুষ বা নারীর উর্বরতা নিয়ে পূর্ববর্তী কোনো জটিলতা থাকলে।

পরিকল্পিত মাতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, ৩০ বছরের পর মাতৃত্ব মানেই ঝুঁকি বা সমস্যা—এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রজনন সক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা প্রয়োজন। যারা দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক তথ্য ও সচেতন পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক নারীই ৩০ বছরের পর সফলভাবে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করছেন। তাই অযথা ভয় না পেয়ে নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।