ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে আজই বদলান এই ১৪ অভ্যাস

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি। প্রতীকী ছবি।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বেশি হলেও এটি কেবল বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ১৪টি পরিবর্তনযোগ্য কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আলঝেইমার, যা মোট ডিমেনশিয়া রোগীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে দায়ী। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পরিচিত মানুষ বা জায়গা চিনতে অসুবিধা হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যার মতো লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়া পুরোপুরি প্রতিরোধ করা না গেলেও কিছু ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়। এসব কারণের বেশিরভাগই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

১. শেখার অভ্যাস কখনও বন্ধ করবেন না

শুধু ছোটবেলার শিক্ষা নয়, সারা জীবন নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বই পড়া, নতুন ভাষা শেখা, ধাঁধা সমাধান কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

২. শ্রবণশক্তির যত্ন নিন

অনেকেই বয়স বাড়ার সঙ্গে কানে কম শুনলেও গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন শ্রবণ সমস্যা থাকলে মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত শ্রবণ পরীক্ষা ও হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা উচিত।

৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে। তাই তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. বিষণ্নতাকে অবহেলা করবেন না

দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভুগলে তা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. মাথায় আঘাত এড়িয়ে চলুন

মাথায় গুরুতর আঘাত ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার, খেলাধুলায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকা জরুরি।

৬. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, লবণ কম খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করলে ঝুঁকি কমে।

৭. প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।

৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। তাই খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৯. ধূমপান ছেড়ে দিন

ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। এটি রক্তনালির ক্ষতি করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।

১০. ওজন স্বাভাবিক রাখুন

অতিরিক্ত ওজন হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব রোগ আবার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

১১. অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ অভ্যাস থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

১২. সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকুন

একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা উপকারী।

১৩. চোখের সমস্যার চিকিৎসা করুন

দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে অনেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যান। তাই চোখের সমস্যা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

১৪. বায়ুদূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং বাইরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।

ঝুঁকিগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকির কারণ আলাদা হলেও অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন শরীরচর্চার অভাবে ওজন বাড়তে পারে, যার ফলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে মানুষ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, যা বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। তাই একটি সমস্যার সমাধান করলে অন্য ঝুঁকিগুলোও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত জীবনযাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কোনো একক উপায় নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে দূরে থাকা, সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবকিছু একসঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে মধ্য বয়স থেকেই এসব অভ্যাস গড়ে তুললে বার্ধক্যে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বড় সুফল এনে দিতে পারে। তাই ডিমেনশিয়াকে শুধু বয়সের সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে এখন থেকেই সচেতন জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে শুধু ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিই কমবে না, সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে আজই বদলান এই ১৪ অভ্যাস

Update Time : ০৮:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বেশি হলেও এটি কেবল বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত ১৪টি পরিবর্তনযোগ্য কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। তাই এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। প্রতি বছরই এই সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আলঝেইমার, যা মোট ডিমেনশিয়া রোগীর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ক্ষেত্রে দায়ী। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া, পরিচিত মানুষ বা জায়গা চিনতে অসুবিধা হওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যার মতো লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

গবেষকদের মতে, ডিমেনশিয়া পুরোপুরি প্রতিরোধ করা না গেলেও কিছু ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো যায়। এসব কারণের বেশিরভাগই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি

১. শেখার অভ্যাস কখনও বন্ধ করবেন না

শুধু ছোটবেলার শিক্ষা নয়, সারা জীবন নতুন কিছু শেখার অভ্যাস মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বই পড়া, নতুন ভাষা শেখা, ধাঁধা সমাধান কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন  স্প্যানিশ নারীদের উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য জানেন কি?

২. শ্রবণশক্তির যত্ন নিন

অনেকেই বয়স বাড়ার সঙ্গে কানে কম শুনলেও গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন শ্রবণ সমস্যা থাকলে মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত শ্রবণ পরীক্ষা ও হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা উচিত।

৩. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হতে পারে। তাই তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. বিষণ্নতাকে অবহেলা করবেন না

দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভুগলে তা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. মাথায় আঘাত এড়িয়ে চলুন

মাথায় গুরুতর আঘাত ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মোটরসাইকেলে হেলমেট ব্যবহার, খেলাধুলায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকা জরুরি।

৬. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, লবণ কম খাওয়া এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করলে ঝুঁকি কমে।

৭. প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে।

আরও পড়ুন  চুলের খুশকি দূর করার ৫ কার্যকর ঘরোয়া উপায়

৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। তাই খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৯. ধূমপান ছেড়ে দিন

ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর। এটি রক্তনালির ক্ষতি করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়।

১০. ওজন স্বাভাবিক রাখুন

অতিরিক্ত ওজন হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব রোগ আবার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

১১. অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই এ অভ্যাস থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।

১২. সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকুন

একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা উপকারী।

১৩. চোখের সমস্যার চিকিৎসা করুন

দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে অনেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যান। তাই চোখের সমস্যা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

১৪. বায়ুদূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন দূষিত পরিবেশে বসবাস করলে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং বাইরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।

আরও পড়ুন  সন্তানের অবাধ্য কথাবার্তা সামলানোর উপায়

ঝুঁকিগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঝুঁকির কারণ আলাদা হলেও অনেক ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। যেমন শরীরচর্চার অভাবে ওজন বাড়তে পারে, যার ফলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার শ্রবণশক্তি কমে গেলে মানুষ সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারেন, যা বিষণ্নতার কারণ হতে পারে। তাই একটি সমস্যার সমাধান করলে অন্য ঝুঁকিগুলোও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত জীবনযাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে কোনো একক উপায় নেই। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে দূরে থাকা, সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—সবকিছু একসঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে মধ্য বয়স থেকেই এসব অভ্যাস গড়ে তুললে বার্ধক্যে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বড় সুফল এনে দিতে পারে। তাই ডিমেনশিয়াকে শুধু বয়সের সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে এখন থেকেই সচেতন জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে শুধু ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিই কমবে না, সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকবে।