ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রান্নায় তেজপাতা কেন ব্যবহার করবেন, জানুন উপকারিতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৩

রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর পাশাপাশি তেজপাতার রয়েছে সম্ভাব্য নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, মাংস, ডাল কিংবা তরকারি বাঙালির নানা রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে তেজপাতার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। রান্নায় সাধারণত ১-২টি তেজপাতা দেওয়া হয় এবং খাবার পরিবেশনের আগে তা তুলে ফেলা হয়। তবে শুধু সুগন্ধ বাড়ানো নয়, তেজপাতায় থাকা কিছু উপাদান শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে।তেজপাতা মূলত লরাস নোবিলিস গাছের শুকনো পাতা। এটি সাধারণত সরাসরি খাওয়ার জন্য নয়, বরং খাবারে বিশেষ ঘ্রাণ ও স্বাদ যোগ করতে ব্যবহার করা হয়। এতে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তেজপাতায় ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটও থাকে।

এ বিষয়ে এমএইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ আঞ্জুমান আরা শিমুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেজপাতা খুব অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি প্রতিদিনের পুষ্টির বড় উৎস নয়। তবে এতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকতে পারে।১০০ গ্রাম তেজপাতায় প্রায় ৩১৩ কিলোক্যালরি ক্যালরি, ৭৪ দশমিক ৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৭ দশমিক ৬ গ্রাম প্রোটিন, ২৬ দশমিক ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ৮ দশমিক ৩ গ্রাম ফ্যাট থাকে। যদিও বাস্তবে রান্নায় এর পরিমাণ খুব কম হওয়ায় এত পুষ্টি সাধারণত পাওয়া যায় না। তাই তেজপাতাকে মূল পুষ্টির উৎস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তেজপাতায় থাকা পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও প্রদাহজনিত বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে তেজপাতা কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।

কিছু গবেষণায় তেজপাতা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা ও রক্তের চর্বির মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুধু তেজপাতা খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

তেজপাতা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে বলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এটি পেট ফাঁপা, পেটের অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় কিছুটা উপকারী হতে পারে। হজমের পাশাপাশি খাবার থেকে পুষ্টি শোষণেও এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এসব উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।তেজপাতায় ইউজেনল ও পার্থেনোলাইডের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং জয়েন্টের ব্যথায় কিছুটা উপকার দিতে পারে। একইভাবে তেজপাতার কিছু উপাদান হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তেজপাতা রক্ত সঞ্চালন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত রয়েছে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হৃদরোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় তেজপাতার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা দরকার।তেজপাতার সুগন্ধি তেল সর্দি, কাশি বা নাক বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা আরাম দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এর এসেনশিয়াল অয়েলের কিছু উপাদান পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখিয়েছে। মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও এটি কাজ করতে পারে।

তবে তেজপাতা ব্যবহারে কিছু সতর্কতা জরুরি। রান্নায় ব্যবহৃত ১-২টি তেজপাতা সাধারণত নিরাপদ হলেও শুকনো পাতা চিবিয়ে খাওয়া কঠিন এবং গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রান্না শেষে তেজপাতা তুলে ফেলে দেওয়াই ভালো। যাদের তেজপাতায় অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অতিরিক্ত পরিমাণে তেজপাতার নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো। ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের তেজপাতার সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের অতিরিক্ত ভেষজজাতীয় উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্নায় তেজপাতা কেন ব্যবহার করবেন, জানুন উপকারিতা

Update Time : ১১:৫৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, মাংস, ডাল কিংবা তরকারি বাঙালির নানা রান্নায় স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে তেজপাতার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। রান্নায় সাধারণত ১-২টি তেজপাতা দেওয়া হয় এবং খাবার পরিবেশনের আগে তা তুলে ফেলা হয়। তবে শুধু সুগন্ধ বাড়ানো নয়, তেজপাতায় থাকা কিছু উপাদান শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে।তেজপাতা মূলত লরাস নোবিলিস গাছের শুকনো পাতা। এটি সাধারণত সরাসরি খাওয়ার জন্য নয়, বরং খাবারে বিশেষ ঘ্রাণ ও স্বাদ যোগ করতে ব্যবহার করা হয়। এতে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া তেজপাতায় ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাটও থাকে।

এ বিষয়ে এমএইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ আঞ্জুমান আরা শিমুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেজপাতা খুব অল্প পরিমাণে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ফলে এটি প্রতিদিনের পুষ্টির বড় উৎস নয়। তবে এতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকতে পারে।১০০ গ্রাম তেজপাতায় প্রায় ৩১৩ কিলোক্যালরি ক্যালরি, ৭৪ দশমিক ৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৭ দশমিক ৬ গ্রাম প্রোটিন, ২৬ দশমিক ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ৮ দশমিক ৩ গ্রাম ফ্যাট থাকে। যদিও বাস্তবে রান্নায় এর পরিমাণ খুব কম হওয়ায় এত পুষ্টি সাধারণত পাওয়া যায় না। তাই তেজপাতাকে মূল পুষ্টির উৎস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  ফুড ডিভোর্স কী খাবারের দায়িত্বের চাপ কমানোর নতুন ভাবনা

তেজপাতায় থাকা পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও প্রদাহজনিত বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে তেজপাতা কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।

কিছু গবেষণায় তেজপাতা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা ও রক্তের চর্বির মাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুধু তেজপাতা খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন  অফিস থেকে আগে বের হওয়ার গ্রহণযোগ্য ৬ অজুহাত

তেজপাতা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে বলেও বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এটি পেট ফাঁপা, পেটের অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় কিছুটা উপকারী হতে পারে। হজমের পাশাপাশি খাবার থেকে পুষ্টি শোষণেও এর ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এসব উপকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।তেজপাতায় ইউজেনল ও পার্থেনোলাইডের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এগুলো শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং জয়েন্টের ব্যথায় কিছুটা উপকার দিতে পারে। একইভাবে তেজপাতার কিছু উপাদান হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

তেজপাতা রক্ত সঞ্চালন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত রয়েছে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হৃদরোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় তেজপাতার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা দরকার।তেজপাতার সুগন্ধি তেল সর্দি, কাশি বা নাক বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা আরাম দিতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া এর এসেনশিয়াল অয়েলের কিছু উপাদান পরীক্ষাগারে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখিয়েছে। মুখের দুর্গন্ধ, দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও এটি কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন  নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন, বদলে যেতে পারে জীবন

তবে তেজপাতা ব্যবহারে কিছু সতর্কতা জরুরি। রান্নায় ব্যবহৃত ১-২টি তেজপাতা সাধারণত নিরাপদ হলেও শুকনো পাতা চিবিয়ে খাওয়া কঠিন এবং গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রান্না শেষে তেজপাতা তুলে ফেলে দেওয়াই ভালো। যাদের তেজপাতায় অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অতিরিক্ত পরিমাণে তেজপাতার নির্যাস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো। ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের তেজপাতার সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের অতিরিক্ত ভেষজজাতীয় উপাদান ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।