জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে খুলনা নগরবাসীকে রক্ষা এবং শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের তাগিদ দিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, পুকুর ও জলাধার রক্ষার পাশাপাশি নগরীতে পর্যাপ্ত গাছ লাগানো গেলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে এক অবহিতকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘লিভিং ইন এ হটার ওয়ার্ল্ড ইমপ্রুভড হিট প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড মিটিগেশন থ্রু কমিউনিটি রেসপনসিভ আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস ইন থ্রি গ্লোবাল সাউথ সিটিস’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।কেসিসি প্রশাসক বলেন, একসময় খুলনা শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পুকুর ছিল। পাশাপাশি ছিল পর্যাপ্ত গাছপালা। ফলে তাপদাহের তীব্র প্রভাব তখনকার শহরবাসীকে এভাবে মোকাবিলা করতে হতো না। সময়ের সঙ্গে নগরীতে নানা পরিবর্তন আসায় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরীকে কীভাবে আরও শীতল রাখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হলে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিবিড় মনিটরিং প্রয়োজন।সভায় জানানো হয়, যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংস্থাটি ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। খুলনা নগরীর তাপদাহ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব, বিশেষ করে তাপদাহের বাস্তব চিত্র বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাপদাহ মোকাবিলায় খুলনা নগরীর প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।প্রকল্পের আওতায় নগরীর তাপমাত্রা ও হটস্পট ম্যাপিং করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল হিট সেন্সর স্থাপন, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও চাহিদা মূল্যায়ন করা হবে। তাপদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়নও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ ছাড়া তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তাপদাহের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম। প্রকল্পের পটভূমি ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম তুলে ধরেন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স থিম্যাটিক লিড তামান্না রহমান। সভায় কেসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
অবহিতকরণ সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এবং প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস ও আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানমও উপস্থিত ছিলেন।
এতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক প্রফেসর ড. তুষার কান্তি রায় ও মো. রায়হান খান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিল সওগাত ও মো. তৌকির হোসেন অংশ নেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন অর রশিদসহ কেসিসির প্রকল্পভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অংশীজন প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।




























