ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, বাড়ছে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

লঘুচাপের প্রভাবে চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল | ছবি: সংগৃহীত

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানায়।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে তিনি জানান, সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।

সকাল ৯টায় প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর লাগোয়া উত্তর উড়িষ্যা ও উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার নিয়মিত সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। এ ছাড়া টেকনাফে ৩৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ২৮ মিলিমিটার, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২৪ মিলিমিটার, সিলেটে ১৮ মিলিমিটার এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত ছিল তুলনামূলক কম।

অন্যদিকে একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী ও চুয়াডাঙ্গায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলেসহ সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ঝড়ো হাওয়ার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাই চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহালের এই নির্দেশনা সমুদ্রগামী নৌযান ও উপকূলবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাইব্যুনালে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা হাজির

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, বাড়ছে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা

Update Time : ১২:০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানায়।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কিছুটা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য অনেক এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে তিনি জানান, সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।

সকাল ৯টায় প্রকাশিত বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর লাগোয়া উত্তর উড়িষ্যা ও উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  ঢাকার তাপমাত্রা বাড়ার পূর্বাভাস: দাবদাহে আরও অস্বস্তির আশঙ্কা

এ কারণে দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত জারির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার নিয়মিত সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জামায়াতের

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়। এ ছাড়া টেকনাফে ৩৫ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ২৮ মিলিমিটার, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২৪ মিলিমিটার, সিলেটে ১৮ মিলিমিটার এবং নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত ছিল তুলনামূলক কম।

অন্যদিকে একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী ও চুয়াডাঙ্গায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টা দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  মুঘল আমলে চট্টগ্রাম: বিস্ময়কর বন্দর নগরীর ইতিহাস

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলেসহ সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ঝড়ো হাওয়ার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

আবহাওয়া পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে জারি করা তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। তাই চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত বহালের এই নির্দেশনা সমুদ্রগামী নৌযান ও উপকূলবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।