বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে জমে থাকা প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাজধানীর লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে এসব বর্জ্য সরাতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকার জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দুই থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পাশাপাশি আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুড়িগঙ্গার তীরে দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক ও নানা ধরনের বর্জ্য জমে থাকায় নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য পড়ে থাকার বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনায় আসে। এসব বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে দূষণের মাত্রা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে এর আগেও একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এইচআরপিবির করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে আদালত কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। সেই নির্দেশনায় বুড়িগঙ্গার তীরে প্লাস্টিকসহ কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলে না রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল।
তবে আদালতের নির্দেশনার পরও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে শত শত প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে থাকার চিত্র সামনে আসে। গত ১৯ আগস্ট ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে এ বিষয়ে ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও নাছরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।
শুনানি শেষে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বুড়িগঙ্গার তীর পরিষ্কার করার পাশাপাশি নদীদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বুড়িগঙ্গার পানিদূষণের কারণে ঢাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১০ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য নদীতে পড়ে দূষণ আরও বাড়াতে পারে। এ কারণেই সম্পূরক আবেদন করা হয় এবং শুনানি শেষে আদালত বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন।



























