মস্তিষ্ক সচল রাখার উপায় নিয়ে উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভুলে যাওয়ার সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা কথার মাঝখানে প্রয়োজনীয় শব্দ মনে করতে না পারার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিবর্তন সবসময় গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ নয়। কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘদিন মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।
প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে। উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল মস্তিষ্কের রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তির অবনতির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের কোষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা হালকা ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে চিন্তাশক্তিকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রতিদিনের খাবারে সবুজ শাকসবজি, বাদাম, বীজ, সামুদ্রিক মাছ, অলিভ অয়েল ও বিভিন্ন ধরনের ফল রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এসব খাবার মস্তিষ্কের কোষকে পুষ্টি জোগায় এবং বয়সজনিত ক্ষয় ধীর করতে সহায়তা করে।
শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কেরও নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন। নতুন ভাষা শেখা, বই পড়া, বাদ্যযন্ত্র চর্চা, লেখা কিংবা সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে সক্রিয় রাখে। পাশাপাশি দাবা, পাজল বা স্যুডোকুর মতো খেলাও মানসিক দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমায় এবং একাকীত্বের ঝুঁকি হ্রাস করে। পর্যাপ্ত ঘুমও মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে।
তবে যদি নিয়মিত পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাওয়া, একই প্রশ্ন বারবার করা বা দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে অসুবিধা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলেই বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সচল ও প্রাণবন্ত রাখা সম্ভব।




























