ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৪

ম্যাঙ্গানিজ দূষণে ঝুঁকিতে ভূগর্ভস্থ পানি। ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ পানিতে লুকিয়ে থাকা নতুন এক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মাত্রার ম্যাঙ্গানিজযুক্ত ভূগর্ভস্থ পানি পান করছেন বিশ্বের প্রায় ১৮ থেকে ২২ কোটি মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার ওয়াটার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সুইজারল্যান্ডের পানিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ফেডারেল ইনস্টিটিউটের গবেষক জোয়েল পোডগোর্স্কি ও মাইকেল বার্গ। তাদের তৈরি বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ ম্যাঙ্গানিজ দূষণের অন্যতম প্রধান হটস্পট।

গবেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত ম্যাঙ্গানিজ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকদের মস্তিষ্কের বিকাশ, বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণগত বিকাশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কম অক্সিজেনযুক্ত ভূগর্ভস্থ পরিবেশে অণুজীবের ক্রিয়ার ফলে মাটির পলিতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ পানিতে মিশে যায়। যদিও ম্যাঙ্গানিজ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান, তবে পানিতে এর অতিরিক্ত উপস্থিতি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২১ সালে পানিতে ম্যাঙ্গানিজের নিরাপদ মাত্রা প্রতি লিটারে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম থেকে কমিয়ে ৮০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে। গবেষক মাইকেল বার্গ বলেন, এতদিন আর্সেনিক, ফ্লোরাইড ও নাইট্রেট নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও ম্যাঙ্গানিজকে তুলনামূলকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক জোয়েল পোডগোর্স্কি সতর্ক করে বলেন, কোনো নলকূপের পানি আর্সেনিকমুক্ত হলেই সেটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। পানিতে ম্যাঙ্গানিজের মাত্রাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে সাধারণ বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা এবং বালির ফিল্টার ব্যবহার করে পানি থেকে ম্যাঙ্গানিজ অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

সূত্র: ফিজ ডট অর্গ

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Update Time : ০১:৪৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ পানিতে লুকিয়ে থাকা নতুন এক স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মাত্রার ম্যাঙ্গানিজযুক্ত ভূগর্ভস্থ পানি পান করছেন বিশ্বের প্রায় ১৮ থেকে ২২ কোটি মানুষ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার ওয়াটার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সুইজারল্যান্ডের পানিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ফেডারেল ইনস্টিটিউটের গবেষক জোয়েল পোডগোর্স্কি ও মাইকেল বার্গ। তাদের তৈরি বৈশ্বিক মানচিত্রে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ ম্যাঙ্গানিজ দূষণের অন্যতম প্রধান হটস্পট।

আরও পড়ুন  ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে শুরু? জানালেন প্রধানমন্ত্রী

গবেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত ম্যাঙ্গানিজ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও নবজাতকদের মস্তিষ্কের বিকাশ, বুদ্ধিমত্তা এবং আচরণগত বিকাশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঝুঁকিতে থাকা মানুষের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ায় বসবাস করেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, কম অক্সিজেনযুক্ত ভূগর্ভস্থ পরিবেশে অণুজীবের ক্রিয়ার ফলে মাটির পলিতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ পানিতে মিশে যায়। যদিও ম্যাঙ্গানিজ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান, তবে পানিতে এর অতিরিক্ত উপস্থিতি বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  নাটোরে শুভসংঘের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২১ সালে পানিতে ম্যাঙ্গানিজের নিরাপদ মাত্রা প্রতি লিটারে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম থেকে কমিয়ে ৮০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে। গবেষক মাইকেল বার্গ বলেন, এতদিন আর্সেনিক, ফ্লোরাইড ও নাইট্রেট নিয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও ম্যাঙ্গানিজকে তুলনামূলকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক জোয়েল পোডগোর্স্কি সতর্ক করে বলেন, কোনো নলকূপের পানি আর্সেনিকমুক্ত হলেই সেটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাবে না। পানিতে ম্যাঙ্গানিজের মাত্রাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে সাধারণ বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা এবং বালির ফিল্টার ব্যবহার করে পানি থেকে ম্যাঙ্গানিজ অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন  শিশুদের বার্নআউট কী কীভাবে চিনবেন

সূত্র: ফিজ ডট অর্গ