ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী Logo ৭১১ কোটি রুপিতে পুরো আবাসিক টাওয়ার কিনলেন দীনেশ ঠক্কর Logo উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা বাড়ানোর সুপারিশ Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা Logo কাজিপুরে আফজাল হোসেন স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত Logo গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল গাজীপুর Logo উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা Logo ইউপি নির্বাচনের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি দিলে শাস্তি Logo আসিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ নিয়ে হামজা বললেন, ‘কাউকে ভয় পেতে আসিনি’ Logo নার্সিং কর্মীদের পদোন্নতির প্রস্তুতি শুরু, কাগজ জমার শেষ সময় জানাল অধিদপ্তর

প্রাক্তনের স্মৃতি কেন রাতের ঘুম কেড়ে নেয়?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪৭

রাতে প্রাক্তনের পুরোনো ছবি দেখছেন | ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্ক শেষ হয়েছে বহু আগেই। তবুও গভীর রাতে চোখের সামনে হঠাৎ ভেসে ওঠে প্রাক্তনের মুখ, পুরোনো কথোপকথন কিংবা একসঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করেও আসে না ঘুম। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের আবেগে আটকে থাকলে তা শুধু মানসিক শান্তিই নয়, ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও নষ্ট করতে পারে।

কেন প্রাক্তনের কথা রাতে বেশি মনে পড়ে?

দিনভর কাজ, ব্যস্ততা কিংবা মানুষের ভিড়ে মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাত গভীর হলে চারপাশের নীরবতা অতীতের স্মৃতিগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। তখন মস্তিষ্ক পুরোনো সম্পর্ক, অপূর্ণতা কিংবা ‘যদি এমন হতো’ ধরনের ভাবনায় ডুবে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত চিন্তাই ঘুমের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

কেন আসে না ঘুম?

মানসিক চাপ ও আবেগের কারণে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে শরীর বিশ্রাম নিতে চাইলেও মস্তিষ্ক সচল থাকে। অনেকেই ঘুমানোর আগে পুরোনো ছবি দেখা, পুরোনো চ্যাট পড়া বা প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘাঁটার অভ্যাসে আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এতে ঘুম আরও দেরিতে আসে এবং ঘুমের মানও কমে যায়।

এর প্রভাব কী?

* সকালে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করা।

* কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া।

* খিটখিটে মেজাজ ও মানসিক অস্থিরতা।

* দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

* রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

কীভাবে এই অভ্যাস থেকে বের হবেন?

* ঘুমানোর আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন।

* বিশেষ করে প্রাক্তনের প্রোফাইল, ছবি বা পুরোনো বার্তা দেখা এড়িয়ে চলুন।

* নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

বই পড়া, হালকা গান শোনা, মেডিটেশন বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাস মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

*বাস্তবতাকে মেনে নিন

প্রতিটি সম্পর্কই জীবনের একটি অধ্যায়। শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে বারবার জীবিত রাখার চেষ্টা মানসিক চাপ বাড়ায়।

* নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়িকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

* প্রয়োজনে কথা বলুন

ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া অনেক সময় মানসিক ভার কমাতে সাহায্য করে।

* নিজেকে সময় দিন

প্রাক্তনের কথা মনে পড়া বা সম্পর্ক ভাঙার পর কিছুদিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে যদি সেই স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে আপনার ঘুম, কাজ বা স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সুস্থ ঘুম শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতারও অন্যতম ভিত্তি।

অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব না হলেও, তাকে জীবনের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে শান্তির ঘুম ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহস্পতিবার স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ দেবেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

প্রাক্তনের স্মৃতি কেন রাতের ঘুম কেড়ে নেয়?

Update Time : ০৩:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সম্পর্ক শেষ হয়েছে বহু আগেই। তবুও গভীর রাতে চোখের সামনে হঠাৎ ভেসে ওঠে প্রাক্তনের মুখ, পুরোনো কথোপকথন কিংবা একসঙ্গে কাটানো কিছু মুহূর্ত। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করেও আসে না ঘুম। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতের আবেগে আটকে থাকলে তা শুধু মানসিক শান্তিই নয়, ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও নষ্ট করতে পারে।

কেন প্রাক্তনের কথা রাতে বেশি মনে পড়ে?

দিনভর কাজ, ব্যস্ততা কিংবা মানুষের ভিড়ে মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু রাত গভীর হলে চারপাশের নীরবতা অতীতের স্মৃতিগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। তখন মস্তিষ্ক পুরোনো সম্পর্ক, অপূর্ণতা কিংবা ‘যদি এমন হতো’ ধরনের ভাবনায় ডুবে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত চিন্তাই ঘুমের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  এক্সারসাইজ শুরু করার উপায় জানতে চান?

কেন আসে না ঘুম?

মানসিক চাপ ও আবেগের কারণে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে শরীর বিশ্রাম নিতে চাইলেও মস্তিষ্ক সচল থাকে। অনেকেই ঘুমানোর আগে পুরোনো ছবি দেখা, পুরোনো চ্যাট পড়া বা প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘাঁটার অভ্যাসে আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এতে ঘুম আরও দেরিতে আসে এবং ঘুমের মানও কমে যায়।

এর প্রভাব কী?

* সকালে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করা।

* কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া।

* খিটখিটে মেজাজ ও মানসিক অস্থিরতা।

* দীর্ঘদিন চলতে থাকলে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  ঘুমের মধ্যে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি কেন হয়? জানুন কারণ

* রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতা ও দৈনন্দিন কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

কীভাবে এই অভ্যাস থেকে বের হবেন?

* ঘুমানোর আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন।

* বিশেষ করে প্রাক্তনের প্রোফাইল, ছবি বা পুরোনো বার্তা দেখা এড়িয়ে চলুন।

* নিজেকে ব্যস্ত রাখুন

বই পড়া, হালকা গান শোনা, মেডিটেশন বা ডায়েরি লেখার মতো অভ্যাস মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

*বাস্তবতাকে মেনে নিন

প্রতিটি সম্পর্কই জীবনের একটি অধ্যায়। শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে বারবার জীবিত রাখার চেষ্টা মানসিক চাপ বাড়ায়।

* নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়িকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন  মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে

* প্রয়োজনে কথা বলুন

ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া অনেক সময় মানসিক ভার কমাতে সাহায্য করে।

* নিজেকে সময় দিন

প্রাক্তনের কথা মনে পড়া বা সম্পর্ক ভাঙার পর কিছুদিন মন খারাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে যদি সেই স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে আপনার ঘুম, কাজ বা স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, সুস্থ ঘুম শুধু শরীর নয়, মানসিক সুস্থতারও অন্যতম ভিত্তি।

অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব না হলেও, তাকে জীবনের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে শান্তির ঘুম ফিরে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পথ।