ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয় Logo রায়গঞ্জে ব্যতিক্রমী ফুটবল আয়োজনে উন্মাদনায় মাতলেন যুবসমাজ Logo বিশ্বের শীর্ষ বন্দর তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৮তম Logo মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে Logo কচু খেলে গলা ধরে কেন জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতার কারণ Logo অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিচ্ছেন রূপচর্চায় কাজে লাগা এই উপাদানগুলো Logo দামি স্কিনকেয়ার ছাড়াই সুন্দর ত্বক আর ঝলমলে চুলের সহজ উপায় Logo ভূরুঙ্গামারীতে এনসিপির ৩ মাসের আংশিক কমিটিতে আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ , সদস্য সচিব মোর্শেদুর রহমান আনিস Logo ওজন নিয়ন্ত্রণে স্ন্যাকস খাওয়ার সেরা সময় জানুন Logo চকরিয়া থানায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি সহ ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার, এলজি বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

সবুজের মাঝে হাঁটা হতে পারে সহজ নেচার ব্রেক। ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত শহুরে জীবনে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় কাজ, যানজট, কংক্রিটের ভবন আর স্ক্রিনের সামনে। নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অথচ মন ও শরীরকে একটু স্বস্তি দিতে সবসময় জিমে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিটের নেচার ব্রেক হতে পারে সহজ একটি অভ্যাস।

প্রকৃতির কাছে কিছুক্ষণ থাকা শুধু চোখের প্রশান্তি নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। গাছপালা, খোলা আকাশ, পাখির ডাক কিংবা বাতাসের স্বাভাবিক শব্দ ব্যস্ত মস্তিষ্ককে কিছুটা বিরতি দেওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে কাজের চাপের মাঝেও নিজেকে কিছুটা শান্ত ও সতেজ মনে হতে পারে।

নেচার ব্রেক কেন এত কার্যকর?

প্রকৃতির পরিবেশে সময় কাটানোর সঙ্গে শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। প্রকৃতির দৃশ্য ও শব্দ শরীরকে তুলনামূলক শান্ত অবস্থায় যেতে সাহায্য করতে পারে। এ সময় হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপের মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়াতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট প্রকৃতির পরিবেশে সময় কাটিয়েছেন, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা তুলনামূলক ভালো বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট প্রকৃতির কাছে থাকার অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বাস্থ্যকর রুটিনের অংশ হতে পারে।

স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করতে পারে

অতিরিক্ত কাজের চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীরে স্ট্রেস-সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়। প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো এই চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে পার্কে ধীরে হাঁটা, গাছের নিচে বসে থাকা কিংবা সবুজের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা মস্তিষ্ককে ব্যস্ততা থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখে।

এক্ষেত্রে ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার বদলে সত্যিকারের নেচার ব্রেক নেওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ উদ্দেশ্য হলো স্ক্রিন থেকে দূরে গিয়ে পরিবেশটিকে সচেতনভাবে উপভোগ করা।

প্রকৃতির গন্ধও দিতে পারে স্বস্তি

প্রকৃতির অভিজ্ঞতা শুধু চোখে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা ও মাটির স্বাভাবিক গন্ধও অনেকের কাছে প্রশান্তিদায়ক মনে হতে পারে। কিছু গবেষণায় গাছ থেকে আসা প্রাকৃতিক সুগন্ধি যৌগ এবং মানুষের শারীরিক-মানসিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তাই পার্কে হাঁটার সময় শুধু দ্রুত হাঁটাহাঁটি না করে চারপাশের গাছপালা, বাতাস ও প্রাকৃতিক গন্ধও উপভোগ করতে পারেন। এতে ছোট্ট বিরতিটা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

২০ মিনিট কীভাবে কাটাবেন?

এর জন্য কোনো বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে কাছের পার্কে ২০ মিনিট হাঁটতে পারেন। বিকেলে ছাদে গিয়ে গাছপালার পাশে বসে থাকতে পারেন। সকালে কয়েক মিনিট খোলা জায়গায় হাঁটাও হতে পারে ভালো বিকল্প।

চাইলে এই সময়টাকে ‘ফোন-ফ্রি’ করে নিতে পারেন। ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে শুধু হাঁটা, বসে থাকা কিংবা চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন। নিয়মিত করলে এটি আপনার দৈনন্দিন ওয়েলনেস রুটিনের একটি সহজ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে?

প্রতিদিন পার্কে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ঘরেও প্রকৃতির উপস্থিতি বাড়ানো যায়। জানালার পাশে ছোট গাছ রাখা, বারান্দায় সবুজের ব্যবস্থা করা কিংবা ছাদবাগানে কিছু সময় কাটানো হতে পারে বিকল্প।

তবে ঘরের গাছ বা প্রকৃতির ছবি বাস্তব সবুজ পরিবেশের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। সুযোগ থাকলে সপ্তাহে কয়েক দিন হলেও বাইরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেচার ব্রেক কোনো কঠিন স্বাস্থ্য রুটিন নয়। এর জন্য দামি জিমের সদস্যপদ, বিশেষ সরঞ্জাম কিংবা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। দিনের ব্যস্ততার মধ্য থেকে মাত্র ২০ মিনিট বের করে কাছের সবুজ জায়গায় হাঁটা বা বসে থাকাই হতে পারে শুরু।

তবে প্রকৃতির কাছে থাকা শরীর-মন ভালো রাখার সহায়ক অভ্যাস হলেও এটি চিকিৎসা বা নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প নয়। বরং পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পাশাপাশি এই ছোট অভ্যাসটি দৈনন্দিন জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয়

মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে

Update Time : ১০:৫২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্যস্ত শহুরে জীবনে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় কাজ, যানজট, কংক্রিটের ভবন আর স্ক্রিনের সামনে। নিজের জন্য আলাদা সময় বের করা যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অথচ মন ও শরীরকে একটু স্বস্তি দিতে সবসময় জিমে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিটের নেচার ব্রেক হতে পারে সহজ একটি অভ্যাস।

প্রকৃতির কাছে কিছুক্ষণ থাকা শুধু চোখের প্রশান্তি নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। গাছপালা, খোলা আকাশ, পাখির ডাক কিংবা বাতাসের স্বাভাবিক শব্দ ব্যস্ত মস্তিষ্ককে কিছুটা বিরতি দেওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে কাজের চাপের মাঝেও নিজেকে কিছুটা শান্ত ও সতেজ মনে হতে পারে।

নেচার ব্রেক কেন এত কার্যকর?

প্রকৃতির পরিবেশে সময় কাটানোর সঙ্গে শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। প্রকৃতির দৃশ্য ও শব্দ শরীরকে তুলনামূলক শান্ত অবস্থায় যেতে সাহায্য করতে পারে। এ সময় হৃদ্‌স্পন্দন ও রক্তচাপের মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়াতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন  রাতের খাবার না খেলে কী হয়? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট প্রকৃতির পরিবেশে সময় কাটিয়েছেন, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা তুলনামূলক ভালো বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট প্রকৃতির কাছে থাকার অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বাস্থ্যকর রুটিনের অংশ হতে পারে।

স্ট্রেস কমাতেও সাহায্য করতে পারে

অতিরিক্ত কাজের চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীরে স্ট্রেস-সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়। প্রকৃতির মাঝে কিছু সময় কাটানো এই চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে পার্কে ধীরে হাঁটা, গাছের নিচে বসে থাকা কিংবা সবুজের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা মস্তিষ্ককে ব্যস্ততা থেকে সাময়িকভাবে দূরে রাখে।

এক্ষেত্রে ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার বদলে সত্যিকারের নেচার ব্রেক নেওয়াই বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ উদ্দেশ্য হলো স্ক্রিন থেকে দূরে গিয়ে পরিবেশটিকে সচেতনভাবে উপভোগ করা।

প্রকৃতির গন্ধও দিতে পারে স্বস্তি

প্রকৃতির অভিজ্ঞতা শুধু চোখে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাছপালা ও মাটির স্বাভাবিক গন্ধও অনেকের কাছে প্রশান্তিদায়ক মনে হতে পারে। কিছু গবেষণায় গাছ থেকে আসা প্রাকৃতিক সুগন্ধি যৌগ এবং মানুষের শারীরিক-মানসিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  আপেল কতদিন ভালো থাকে? সংরক্ষণ ও পুষ্টিগুণ জানুন

তাই পার্কে হাঁটার সময় শুধু দ্রুত হাঁটাহাঁটি না করে চারপাশের গাছপালা, বাতাস ও প্রাকৃতিক গন্ধও উপভোগ করতে পারেন। এতে ছোট্ট বিরতিটা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

২০ মিনিট কীভাবে কাটাবেন?

এর জন্য কোনো বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে কাছের পার্কে ২০ মিনিট হাঁটতে পারেন। বিকেলে ছাদে গিয়ে গাছপালার পাশে বসে থাকতে পারেন। সকালে কয়েক মিনিট খোলা জায়গায় হাঁটাও হতে পারে ভালো বিকল্প।

চাইলে এই সময়টাকে ‘ফোন-ফ্রি’ করে নিতে পারেন। ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে শুধু হাঁটা, বসে থাকা কিংবা চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন। নিয়মিত করলে এটি আপনার দৈনন্দিন ওয়েলনেস রুটিনের একটি সহজ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে?

আরও পড়ুন  ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যেসব খাবার নিয়মিত খাবেন

প্রতিদিন পার্কে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে ঘরেও প্রকৃতির উপস্থিতি বাড়ানো যায়। জানালার পাশে ছোট গাছ রাখা, বারান্দায় সবুজের ব্যবস্থা করা কিংবা ছাদবাগানে কিছু সময় কাটানো হতে পারে বিকল্প।

তবে ঘরের গাছ বা প্রকৃতির ছবি বাস্তব সবুজ পরিবেশের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। সুযোগ থাকলে সপ্তাহে কয়েক দিন হলেও বাইরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নেচার ব্রেক কোনো কঠিন স্বাস্থ্য রুটিন নয়। এর জন্য দামি জিমের সদস্যপদ, বিশেষ সরঞ্জাম কিংবা দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। দিনের ব্যস্ততার মধ্য থেকে মাত্র ২০ মিনিট বের করে কাছের সবুজ জায়গায় হাঁটা বা বসে থাকাই হতে পারে শুরু।

তবে প্রকৃতির কাছে থাকা শরীর-মন ভালো রাখার সহায়ক অভ্যাস হলেও এটি চিকিৎসা বা নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প নয়। বরং পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পাশাপাশি এই ছোট অভ্যাসটি দৈনন্দিন জীবনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পারে।