ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যেসব খাবার নিয়মিত খাবেন

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসাই নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের আইসিএমআর (Indian Council of Medical Research)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, সঠিক ডায়েট অনুসরণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার ক্যান্সারের চিকিৎসার বিকল্প নয়; এটি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

কেন খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের মতে, ক্যান্সার কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এজন্য তাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। এ ধরনের খাবার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা কোষ বিভাজনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মেটাবলিক রিপ্রোগ্রামিং’ বলা হয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে যেসব খাবার উপকারী

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিচের খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন—

  • রঙিন ফল ও সবজি: প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ধরনের রঙের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন—

    • গাজর
    • টমেটো
    • ব্রকলি
    • বিট
    • কিউই

    এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: ডাল, কাঠবাদাম, চিয়া বীজ, সূর্যমুখীর বীজ ও তিসির বীজে রয়েছে উপকারী পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
  • হলুদ ও রসুন: হলুদের কারকিউমিন এবং রসুনের অ্যালিসিন শক্তিশালী জৈব উপাদান হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গবেষণায় এগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
  • গ্রিন টি ও বেরি জাতীয় ফল: গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও অন্যান্য বেরি জাতীয় ফলে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  • ব্রকলি ও টমেটো: ব্রকলিতে থাকা সালফোরাফেন এবং টমেটোর লাইকোপেন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টমেটোর লাইকোপেন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

যেসব খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিছু খাবার সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন—

  • অতিরিক্ত চিনি
  • সফট ড্রিংক ও মিষ্টিজাতীয় পানীয়
  • ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার
  • পিৎজা, বার্গার ও কুকিজ
  • প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার
  • অতিরিক্ত ফাস্টফুড

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও পরিবর্তন জরুরি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার, অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও কোনো একক খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে পারে না। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে টু-৯৫ বোমারু বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যেসব খাবার নিয়মিত খাবেন

Update Time : ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসাই নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের আইসিএমআর (Indian Council of Medical Research)-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, সঠিক ডায়েট অনুসরণ করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাবার ক্যান্সারের চিকিৎসার বিকল্প নয়; এটি রোগ প্রতিরোধে সহায়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

কেন খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষকদের মতে, ক্যান্সার কোষ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এজন্য তাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে। এ ধরনের খাবার শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা কোষ বিভাজনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মেটাবলিক রিপ্রোগ্রামিং’ বলা হয়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে যেসব খাবার উপকারী

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিচের খাবারগুলো রাখার চেষ্টা করুন—

  • রঙিন ফল ও সবজি: প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ধরনের রঙের ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন—

    • গাজর
    • টমেটো
    • ব্রকলি
    • বিট
    • কিউই

    এসব খাবারে থাকা ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন: ডাল, কাঠবাদাম, চিয়া বীজ, সূর্যমুখীর বীজ ও তিসির বীজে রয়েছে উপকারী পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
  • হলুদ ও রসুন: হলুদের কারকিউমিন এবং রসুনের অ্যালিসিন শক্তিশালী জৈব উপাদান হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গবেষণায় এগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
  • গ্রিন টি ও বেরি জাতীয় ফল: গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও অন্যান্য বেরি জাতীয় ফলে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কমাতে সহায়ক হতে পারে।
  • ব্রকলি ও টমেটো: ব্রকলিতে থাকা সালফোরাফেন এবং টমেটোর লাইকোপেন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টমেটোর লাইকোপেন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে।

যেসব খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিছু খাবার সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন—

  • অতিরিক্ত চিনি
  • সফট ড্রিংক ও মিষ্টিজাতীয় পানীয়
  • ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার
  • পিৎজা, বার্গার ও কুকিজ
  • প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার
  • অতিরিক্ত ফাস্টফুড

শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও পরিবর্তন জরুরি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার, অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও কোনো একক খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে পারে না। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।