ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয় Logo রায়গঞ্জে ব্যতিক্রমী ফুটবল আয়োজনে উন্মাদনায় মাতলেন যুবসমাজ Logo বিশ্বের শীর্ষ বন্দর তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৮তম Logo মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে Logo কচু খেলে গলা ধরে কেন জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতার কারণ Logo অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিচ্ছেন রূপচর্চায় কাজে লাগা এই উপাদানগুলো Logo দামি স্কিনকেয়ার ছাড়াই সুন্দর ত্বক আর ঝলমলে চুলের সহজ উপায় Logo ভূরুঙ্গামারীতে এনসিপির ৩ মাসের আংশিক কমিটিতে আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ , সদস্য সচিব মোর্শেদুর রহমান আনিস Logo ওজন নিয়ন্ত্রণে স্ন্যাকস খাওয়ার সেরা সময় জানুন Logo চকরিয়া থানায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতি সহ ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার, এলজি বন্দুকসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরুর পথে রাজশাহীর শিক্ষার্থী মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়। মো. মালেকুল সালেহীন

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালেকুল সালেহীন প্রত্যয় পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরু ঘুরে এসেছেন। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই অসাধারণ ভ্রমণের সুযোগ পান তিনি।

১ আগস্ট ঢাকা থেকে মস্কোয় পৌঁছে পরদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইটে মুরমানস্কে যান তিনি।উত্তর মেরুর এই ভ্রমণের শুরুতেই প্রত্যয়ের সামনে আসে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। রাশিয়ার মুরমানস্কে পৌঁছে গভীর রাতেও চারদিকে দিনের মতো আলো দেখতে পান তিনি। সেখানে তখন চলছিল পোলার ডে, যে সময়ে দীর্ঘ সময় সূর্য অস্ত যায় না।

৩ আগস্ট মুরমানস্ক ঘুরে দেখার পর ৪ আগস্ট সকালে আইসব্রেকারে ওঠেন প্রত্যয়সহ অন্য শিক্ষার্থীরা। বন্দরটি ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং সেখানে রাশিয়ার নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের একে একে জাহাজে নেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে আসা অভিভাবকেরা পরে হোটেলে ফিরে যান।

জাহাজে ওঠার প্রথম দিকে আনন্দেই সময় কাটছিল। পুরো আইসব্রেকার ঘুরিয়ে দেখানো হয় এবং কোথায় কী করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর নোঙর তুলে জাহাজ উত্তর মেরুর উদ্দেশে চলতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হয় ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা এবং প্রচণ্ড দুলুনির মুখে পড়েন যাত্রীরা।প্রত্যয় জানান, ঝড়ের কারণে উঁচু ঢেউয়ে জাহাজ এমনভাবে দুলছিল যে তাঁর মনে হচ্ছিল, যেকোনো সময় জাহাজ ডুবে যেতে পারে। তাঁর পাশাপাশি অনেকেরই সি-সিকনেস বা মোশন সিকনেস দেখা দেয়।

প্রচণ্ড বমির কারণে খাবার খেতেও সমস্যা হচ্ছিল। এভাবে প্রথম দুই দিন কেটে যায় শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেই।তবে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন প্রত্যয়। জাহাজে প্রতিদিনের জীবন ছিল নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা। সকালে শরীরচর্চা, এরপর নাশতা এবং কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক সেশনে অংশ নেওয়া ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ। মেরিন বায়োলজি, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

১৩ আগস্ট রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে আসেন প্রত্যয়

উত্তর মেরু অভিযানে আরেকটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয় সূর্যাস্ত না দেখার কারণে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পরও বাইরে দিনের মতো আলো থাকত। স্থানীয় সময়ের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করতেন তাঁরা। প্রথম দিকে গভীর রাতে আলো দেখে বিষয়টি প্রত্যয়ের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর লাগত।

জাহাজে ওঠার তিন-চার দিন পর প্রথম বরফ দেখতে পান প্রত্যয়। সেদিনই জানতে পারেন, জাহাজের আশপাশে দুটি পোলার বিয়ার দেখা গেছে। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় নিজের চোখে প্রাণীগুলো দেখার সুযোগ পাননি। পরে অন্যদের তোলা ছবি ও ভিডিও দেখে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং এই বিরল মুহূর্ত মিস করার জন্য কিছুটা আফসোসও হয়।বাইরের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত কঠিন। জাহাজের ভেতরে স্বাভাবিক উষ্ণতা থাকলেও বাইরে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও জাহাজের ওপরের অংশে হেলিপ্যাডের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে সময় কাটাতেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে বরফ আর সাদা প্রকৃতির মাঝে ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছেন প্রত্যয়।এই ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে তাঁর। তাঁর রুমমেট ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার একজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক এই পরিবেশে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটিও উপভোগ করেন তিনি।৭ আগস্ট সকালে অবশেষে নর্থ পোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় আইসব্রেকার। বরফের স্তর প্রথমে পাতলা থাকায় কোথায় শিক্ষার্থীদের নামানো নিরাপদ হবে, তা খুঁজে দেখেন আয়োজকেরা। পরে বিকেলে তুলনামূলক পুরু বরফের একটি জায়গায় তাঁদের নামানো হয়।

১৩ আগস্ট রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে আসেন প্রত্যয়

বরফের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেন প্রত্যয়।

বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে উত্তর মেরুর বরফে দাঁড়িয়ে সেই মুহূর্তটিকে নিজের জন্য বিশেষ গর্বের বলে মনে হয়েছে তাঁর।

৮ আগস্ট নর্থ পোল থেকে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এরপর আবারও সেমিনার, খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রামের নিয়মিত জীবন ফিরে আসে। ফেরার পথে প্রত্যয়ের মোশন সিকনেসও তুলনামূলক কম ছিল। তবে অভিযানের শেষ দিকে আরও একটি ঘটনা তাঁর মনে দাগ কাটে। ১২ আগস্ট বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত টি-শার্ট পরা এক রুশ বিশেষজ্ঞকে দেখতে পান তিনি। কথা বলে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৩ আগস্ট মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে শেষ হয় এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী অভিযাত্রা। রুশ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে তাঁর কাজের সময়কার অভিজ্ঞতাও প্রত্যয়ের সঙ্গে ভাগ করে নেন। জানান, বাংলাদেশের অনেক মানুষের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছে এবং একটি গ্রামের বিয়েতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। নিজের মোবাইলে সেই বিয়ের ছবিও দেখান তিনি। পৃথিবীর এত দূরে একজন বিদেশিকে বাংলাদেশের জার্সি পরে দেখে গর্ব অনুভব করেন প্রত্যয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয়

পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয়

Update Time : ১১:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালেকুল সালেহীন প্রত্যয় পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারে চড়ে উত্তর মেরু ঘুরে এসেছেন। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই অসাধারণ ভ্রমণের সুযোগ পান তিনি।

১ আগস্ট ঢাকা থেকে মস্কোয় পৌঁছে পরদিন প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইটে মুরমানস্কে যান তিনি।উত্তর মেরুর এই ভ্রমণের শুরুতেই প্রত্যয়ের সামনে আসে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। রাশিয়ার মুরমানস্কে পৌঁছে গভীর রাতেও চারদিকে দিনের মতো আলো দেখতে পান তিনি। সেখানে তখন চলছিল পোলার ডে, যে সময়ে দীর্ঘ সময় সূর্য অস্ত যায় না।

৩ আগস্ট মুরমানস্ক ঘুরে দেখার পর ৪ আগস্ট সকালে আইসব্রেকারে ওঠেন প্রত্যয়সহ অন্য শিক্ষার্থীরা। বন্দরটি ছিল সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং সেখানে রাশিয়ার নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের একে একে জাহাজে নেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে আসা অভিভাবকেরা পরে হোটেলে ফিরে যান।

জাহাজে ওঠার প্রথম দিকে আনন্দেই সময় কাটছিল। পুরো আইসব্রেকার ঘুরিয়ে দেখানো হয় এবং কোথায় কী করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর নোঙর তুলে জাহাজ উত্তর মেরুর উদ্দেশে চলতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হয় ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রা এবং প্রচণ্ড দুলুনির মুখে পড়েন যাত্রীরা।প্রত্যয় জানান, ঝড়ের কারণে উঁচু ঢেউয়ে জাহাজ এমনভাবে দুলছিল যে তাঁর মনে হচ্ছিল, যেকোনো সময় জাহাজ ডুবে যেতে পারে। তাঁর পাশাপাশি অনেকেরই সি-সিকনেস বা মোশন সিকনেস দেখা দেয়।

প্রচণ্ড বমির কারণে খাবার খেতেও সমস্যা হচ্ছিল। এভাবে প্রথম দুই দিন কেটে যায় শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেই।তবে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন প্রত্যয়। জাহাজে প্রতিদিনের জীবন ছিল নির্দিষ্ট নিয়মে বাঁধা। সকালে শরীরচর্চা, এরপর নাশতা এবং কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন শিক্ষামূলক সেশনে অংশ নেওয়া ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ। মেরিন বায়োলজি, নিউক্লিয়ার বিজ্ঞান, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

১৩ আগস্ট রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে আসেন প্রত্যয়

উত্তর মেরু অভিযানে আরেকটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয় সূর্যাস্ত না দেখার কারণে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পরও বাইরে দিনের মতো আলো থাকত। স্থানীয় সময়ের তুলনায় প্রায় দুই ঘণ্টা এগিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করতেন তাঁরা। প্রথম দিকে গভীর রাতে আলো দেখে বিষয়টি প্রত্যয়ের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক ও ভয়ংকর লাগত।

জাহাজে ওঠার তিন-চার দিন পর প্রথম বরফ দেখতে পান প্রত্যয়। সেদিনই জানতে পারেন, জাহাজের আশপাশে দুটি পোলার বিয়ার দেখা গেছে। কিন্তু তখন তিনি ঘুমিয়ে থাকায় নিজের চোখে প্রাণীগুলো দেখার সুযোগ পাননি। পরে অন্যদের তোলা ছবি ও ভিডিও দেখে ঘটনাটি জানতে পারেন এবং এই বিরল মুহূর্ত মিস করার জন্য কিছুটা আফসোসও হয়।বাইরের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত কঠিন। জাহাজের ভেতরে স্বাভাবিক উষ্ণতা থাকলেও বাইরে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও জাহাজের ওপরের অংশে হেলিপ্যাডের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে সময় কাটাতেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে বরফ আর সাদা প্রকৃতির মাঝে ছবি তোলার সুযোগও পেয়েছেন প্রত্যয়।এই ভ্রমণে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে তাঁর। তাঁর রুমমেট ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার একজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক এই পরিবেশে ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটিও উপভোগ করেন তিনি।৭ আগস্ট সকালে অবশেষে নর্থ পোলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় আইসব্রেকার। বরফের স্তর প্রথমে পাতলা থাকায় কোথায় শিক্ষার্থীদের নামানো নিরাপদ হবে, তা খুঁজে দেখেন আয়োজকেরা। পরে বিকেলে তুলনামূলক পুরু বরফের একটি জায়গায় তাঁদের নামানো হয়।

১৩ আগস্ট রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে আসেন প্রত্যয়

বরফের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেন প্রত্যয়।

বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে উত্তর মেরুর বরফে দাঁড়িয়ে সেই মুহূর্তটিকে নিজের জন্য বিশেষ গর্বের বলে মনে হয়েছে তাঁর।

৮ আগস্ট নর্থ পোল থেকে ফেরার যাত্রা শুরু হয়। এরপর আবারও সেমিনার, খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রামের নিয়মিত জীবন ফিরে আসে। ফেরার পথে প্রত্যয়ের মোশন সিকনেসও তুলনামূলক কম ছিল। তবে অভিযানের শেষ দিকে আরও একটি ঘটনা তাঁর মনে দাগ কাটে। ১২ আগস্ট বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত টি-শার্ট পরা এক রুশ বিশেষজ্ঞকে দেখতে পান তিনি। কথা বলে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৩ আগস্ট মুরমানস্ক বন্দরে ফিরে শেষ হয় এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী অভিযাত্রা। রুশ বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে তাঁর কাজের সময়কার অভিজ্ঞতাও প্রত্যয়ের সঙ্গে ভাগ করে নেন। জানান, বাংলাদেশের অনেক মানুষের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়েছে এবং একটি গ্রামের বিয়েতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। নিজের মোবাইলে সেই বিয়ের ছবিও দেখান তিনি। পৃথিবীর এত দূরে একজন বিদেশিকে বাংলাদেশের জার্সি পরে দেখে গর্ব অনুভব করেন প্রত্যয়।