ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি, মেহেদির লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

ব্ল্যাক মেহেদিতে থাকা রাসায়নিক উপাদান ত্বকের অ্যালার্জি ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। | ছবি: সংগৃহীত

মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি বর্তমানে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে উঠেছে। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে হাত রাঙাতে মেহেদির ব্যবহার বহুদিনের ঐতিহ্য। একসময় মেহেদিগাছের পাতা বেটে প্রাকৃতিকভাবে মেহেদি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বাজারে টিউব ও প্যাকেটজাত মেহেদির ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। তবে এসব মেহেদির কিছুতে এমন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রচলিত অনেক ‘ব্ল্যাক মেহেদি’তে প্যারা ফিনাইলিনডাই-অ্যামাইন (পিপিডি) নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। দ্রুত গাঢ় কালো রং আনার জন্য এই উপাদান মেশানো হলেও এটি ত্বকে মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মেহেদি ব্যবহারের পর অনেকের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

মেহেদি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যেই অ্যালার্জির লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। আক্রান্ত স্থানে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালচে ফুসকুড়ি কিংবা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পানিভর্তি ফোসকা তৈরি হয় এবং ত্বকে কালচে দাগ পড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় এসব দাগ দীর্ঘদিন বা স্থায়ীভাবেও থেকে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মেহেদি ব্যবহারের পর যদি কোনো ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ঠান্ডা পানির সেঁক দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কমতে পারে। আক্রান্ত স্থান চুলকানো বা খোঁচানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা হয়, তবে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। যদি ফোসকা, তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত ফোলাভাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খুব দ্রুত কালো রং দেয় এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার না করাই ভালো। নিরাপদ থাকার জন্য প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করা উচিত। প্রথমবার কোনো মেহেদি ব্যবহার করার আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সচেতনতা ও সঠিক পণ্য নির্বাচনই পারে মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি এবং অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি, মেহেদির লুকানো স্বাস্থ্যঝুঁকি

Update Time : ০৫:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি বর্তমানে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে উঠেছে। উৎসব, বিয়ে কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠানে হাত রাঙাতে মেহেদির ব্যবহার বহুদিনের ঐতিহ্য। একসময় মেহেদিগাছের পাতা বেটে প্রাকৃতিকভাবে মেহেদি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বাজারে টিউব ও প্যাকেটজাত মেহেদির ব্যাপক প্রচলন দেখা যায়। তবে এসব মেহেদির কিছুতে এমন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রচলিত অনেক ‘ব্ল্যাক মেহেদি’তে প্যারা ফিনাইলিনডাই-অ্যামাইন (পিপিডি) নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। দ্রুত গাঢ় কালো রং আনার জন্য এই উপাদান মেশানো হলেও এটি ত্বকে মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মেহেদি ব্যবহারের পর অনেকের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন  মাটির ফিল্টারে পানি ঠান্ডা: বিদ্যুৎ ছাড়াই প্রাকৃতিক সমাধান

মেহেদি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যেই অ্যালার্জির লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। আক্রান্ত স্থানে তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া, লালচে ফুসকুড়ি কিংবা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পানিভর্তি ফোসকা তৈরি হয় এবং ত্বকে কালচে দাগ পড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় এসব দাগ দীর্ঘদিন বা স্থায়ীভাবেও থেকে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মেহেদি ব্যবহারের পর যদি কোনো ধরনের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ঠান্ডা পানির সেঁক দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কমতে পারে। আক্রান্ত স্থান চুলকানো বা খোঁচানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন  গরমে পানিশূন্যতা রোধে কী খাবেন? জানুন কার্যকর উপায়

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করা হয়, তবে তা অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। যদি ফোসকা, তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত ফোলাভাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খুব দ্রুত কালো রং দেয় এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার না করাই ভালো। নিরাপদ থাকার জন্য প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার করা উচিত। প্রথমবার কোনো মেহেদি ব্যবহার করার আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সচেতনতা ও সঠিক পণ্য নির্বাচনই পারে মেহেদিতে ত্বকের ক্ষতি এবং অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখতে।

আরও পড়ুন  কফি কি কোলেস্টেরল বাড়ায়? সত্যিটা জানুন সহজভাবে