মিরসরাইয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার ফয়জুল করিমের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ফকির আস্তানা এলাকায় চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার পর এক যুবক ভালো হওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। স্থানীয়রা তার অনুতাপ বিবেচনা করে তাকে শাস্তিস্বরূপ ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোন ও একটি লেডিস ব্যাগ চুরির অভিযোগে মো. ফয়জুল করিমকে আটক করেন এলাকাবাসী। আটকের পর তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের চুরি বা অসৎ কাজে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার অনুতাপ ও অসহায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয়রা তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয়দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফয়জুল করিমকে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় এবং তওবা করতে বলা হয়। এরপর তিনি আর অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হবেন না—এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অনেকেই আশা করেছিলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
কিন্তু ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ মাদক সেবন ও মাদক বিক্রির অভিযোগে ফয়জুল করিমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে আটক করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফয়জুল করিম জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তাকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই দিনে নতুন অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা হতাশ হয়েছেন।
স্থানীয় যুবক জহির বলেন, ভালো হওয়ার অঙ্গীকার করায় তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছিল। তবে রাতেই মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের খবর শুনে তারা হতাশ হয়েছেন। তার মতে, একজন মানুষ নিজের ইচ্ছায় পরিবর্তন হতে না চাইলে তাকে শুধুমাত্র সুযোগ দিয়ে বদলানো কঠিন।
আরেক স্থানীয় যুবক আহসান উল্লাহ রাকিব বলেন, অসহায় মনে করেই ফয়জুল করিমকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা ফয়জুল করিমকে আটক করেছিলেন এবং পরে তাকে নামাজ ও তওবা করিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর রাতে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, অপরাধ থেকে ফিরে আসার জন্য একজন ব্যক্তির নিজের মানসিক পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র সামাজিক শাস্তি বা সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, যদি ব্যক্তি নিজে সংশোধনের সিদ্ধান্ত না নেন।




























