শক্তিশালী ভূমিকম্প জাপানে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো এলাকায়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনে মুহূর্তেই কেঁপে ওঠে পুরো অঞ্চল। ভূমিকম্পের তীব্রতায় একটি বড় বিপণিবিতানের অংশ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ধসে পড়া বিপণিবিতান থেকে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের প্রাণহানির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চল। কম্পনের পর বিভিন্ন স্থানে কাচ ভেঙে পড়া ও ভবনের অংশ ধসে যাওয়ায় অন্তত ৫০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দিনে আরও শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হতে পারে।
ভূমিকম্পের পরপরই কুমামোতো, নাগাসাকি এবং উপকূলীয় কয়েকটি অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে সমুদ্রের পানির অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ না পাওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবুও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে দুর্যোগের কারণে প্রায় ৪০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিউশু অঞ্চলে বুলেট ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ভূমিকম্পপ্রবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থান করায় জাপানে প্রায়ই ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়। তবে এবারের শক্তিশালী ভূমিকম্প জাপানে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




























