বাংলাদেশ উইক জাপান এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। জাপানের বেপ্পু শহরের রিতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (APU)-তে ৬ থেকে ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় পাঁচ দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজন। বিশ্বের শতাধিক দেশের শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরেন সেখানকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
২৭ সদস্যের একটি আয়োজক দল পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। নেতৃত্ব দেন আকিব আদিত্য খান। বর্তমানে এপিইউতে প্রায় ৩২৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের উদ্যোগেই খাবার, পোশাক, গান, চলচ্চিত্র, নাটক ও লোকজ ঐতিহ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোয়ারা চত্বরে ছিল বর্ণিল আয়োজন। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নৃত্য পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে বিশাল আকৃতির রিকশার প্রতিরূপ ও ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপ। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এগুলোর সামনে ছবি তোলেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখান।
খাবারের স্টলগুলোও ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। পরিবেশন করা হয় চিকেন খিচুড়ি, ফুচকা, সিঙ্গারা এবং সেমাই বরফির মতো জনপ্রিয় বাংলা খাবার। পাশাপাশি মেহেদি কর্নারে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিদেশি শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে হাতে মেহেদি আঁকিয়ে বাংলাদেশি সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠেন।
৭ জুলাই আয়োজন করা হয় ‘ছায়াছবি’ শিরোনামের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। নব্বই দশকের বাংলা সিনেমার গান পরিবেশনের পাশাপাশি এক জাপানি শিক্ষার্থীর কণ্ঠে বাংলা গান দর্শকদের মুগ্ধ করে। ৯ জুলাই প্রথমবারের মতো উৎসবের অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয় নুহাশ হুমায়ূনের জনপ্রিয় হরর অ্যান্থলজি ‘পেট কাটা শ’। এর মাধ্যমে বিদেশি দর্শকরা বাংলা লোককাহিনি ও অতিপ্রাকৃত গল্পের স্বাদ পান।
১০ জুলাই মিলেনিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যান্ড শো দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি। রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাংলা লোককাহিনির চরিত্র নিয়ে ফ্যাশন শো এবং ‘কিশোর আলো’ ম্যাগাজিনের একটি গল্প অবলম্বনে নাট্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। নাটকে জাপানি ও বাংলা লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনও তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। তিনি এপিইউর প্রেসিডেন্ট হিরোশি ইয়োনেয়ামার সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ওইতা প্রিফেকচারের গভর্নরের সঙ্গে শিক্ষা সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
বাংলাদেশ উইক শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং এটি ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্য, শিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র এবং আতিথেয়তাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার এক অনন্য উদ্যোগ। আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে।



























