জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর এক লড়াই। ডালাসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং নাটকীয় সব মুহূর্ত। মাঠে উপস্থিত দর্শকরা যেমন উপভোগ করেছেন প্রতিটি মুহূর্ত, তেমনি টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা সমর্থকরাও পেয়েছেন দারুণ এক ফুটবলীয় বিনোদন। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দুই দলকে।
প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও ম্যাচের গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে। নেদারল্যান্ডস বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও জাপান দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে বারবার ডাচ রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। তবে গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা মেলেনি।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। ৫০ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল হেড করে জালে জড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের গোলে ডাচ সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। ফন ডাইকের নেতৃত্বে রক্ষণভাগও তখন বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল।
তবে জাপানও হাল ছাড়ার পাত্র ছিল না। গোল হজম করার পর তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং দ্রুত প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ বাড়াতে থাকে। এরই ফল আসে ৫৭ মিনিটে। কেইতো নাকামুরা দুর্দান্ত এক নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই গোল জাপানের খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে দর্শকরাও আরও রোমাঞ্চকর ম্যাচের আভাস পেতে শুরু করেন।
জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ৬৩ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। তার নিখুঁত ফিনিশিং জাপানের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেয়নি। গোলের পর ডাচরা আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং বেশ কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি হয়তো নেদারল্যান্ডসই জিতে নেবে। কারণ জাপান আক্রমণ করলেও ডাচ রক্ষণভাগ বেশ সংগঠিত ছিল। কোচ এবং সমর্থকরা তখন তিন পয়েন্টের আশা করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই নিশ্চিত নয়।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে জাপান শেষবারের মতো আক্রমণে ওঠে। সেই আক্রমণ থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। বক্সের ভেতরে দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে জাপানকে ২-২ সমতায় ফেরান দাইচি কামাদা। তার এই গোল মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় এবং জাপান শিবিরে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেয়। সতীর্থদের সঙ্গে তার উদযাপনই বলে দিচ্ছিল, এই গোল তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
শেষ মুহূর্তের এই গোল নেদারল্যান্ডসের জন্য ছিল বড় এক হতাশা। কারণ তারা দুইবার এগিয়ে থেকেও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপানের জন্য এটি ছিল এক অনুপ্রেরণামূলক প্রত্যাবর্তনের গল্প। কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা লড়াই চালিয়ে গেছে এবং শেষ পর্যন্ত তার পুরস্কার পেয়েছে। ম্যাচের পর জাপানের কোচও দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন।
জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। টুর্নামেন্টের শুরুতে এই ড্র হয়তো কোনো দলের জন্য আদর্শ ফল নয়, তবে ম্যাচের নাটকীয়তা এবং লড়াইয়ের মান ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে জাপানের শেষ মুহূর্তের কামব্যাক দীর্ঘদিন মনে রাখবেন সমর্থকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে জাপান তাদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসকে ভবিষ্যতে লিড ধরে রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, জাপান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এমন পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে দুই দলই পরবর্তী রাউন্ডে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
























