রুনা লায়লার কনসার্ট ঘিরে দারুণ একটি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। দেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার একক সংগীতানুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করা হবে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়। সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি যেমন আনন্দের খবর, তেমনি মানবিক উদ্যোগ হিসেবেও প্রশংসিত হচ্ছে।
আগামী ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ আয়োজন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তাঁর জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান পরিবেশন করবেন। একই সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননাও প্রদান করা হবে।
এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। আয়োজকদের মতে, সংগীতের মাধ্যমে মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ফলে এটি শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
রুনা লায়লার সংগীতজীবন ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। বাংলা, হিন্দি, উর্দুসহ ১৮টি ভাষায় তিনি ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আটবার সেরা নারী কণ্ঠশিল্পীর সম্মাননা অর্জনের পাশাপাশি স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। তাঁর গাওয়া ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’সহ অসংখ্য গান আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে সমান জনপ্রিয়।
সব মিলিয়ে, রুনা লায়লার কনসার্ট শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি মানবিক সহমর্মিতারও প্রতীক। সংগীতের মাধ্যমে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে। যারা সংগীত ভালোবাসেন এবং একই সঙ্গে মানবিক কাজে অংশ নিতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি স্মরণীয় আয়োজন।



























