ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের Logo ব্রাজিলের জয়ে টিএসসিতে উল্লাসে মাতল ঢাবি Logo আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি Logo ‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা Logo প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে: উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিক Logo স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা Logo বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন Logo বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল, জার্মানিকে টপকে শীর্ষে গোলদাতা দল Logo বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি

‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা

বাঁয়ে ইলিয়াস জাভেদ, ডানে রোজিনা| ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই সিনেমার সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ ৮২ বছর বয়সে উত্তরার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এই প্রয়াণে চলচ্চিত্র পাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জাভেদের প্রয়াণে গভীর আবেগ প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর বহু সফল সিনেমার জুটি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:

  • প্রথম পরিচয় ও সহযোগিতা: বিএফডিসি চত্বরে নবাগত রোজিনার প্রথম সিনেমায় জাভেদ অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং ড্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। নতুন হিসেবে রোজিনার মনের ভয় দূর করে নাচের কঠিন মুদ্রা শিখতে জাভেদ দারুণ সহযোগিতা করেছিলেন।

  • সফল জুটি: পরবর্তীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে জাভেদের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পান রোজিনা। তাঁরা দুজনে মিলে একসঙ্গে বহু ব্যবসাসফল পারিবারিক, সামাজিক ও ফ্যান্টাসি সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

  • ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলী: বিশাল তারকা হওয়া সত্ত্বেও জাভেদের মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। তিনি সেটের ছোট-বড় সবার সঙ্গে সমানভাবে মিশতেন। অত্যন্ত সরল, নিরহংকার ও সদালাপী এই মানুষটি শুটিং সেটের পরিবেশ সবসময় হাসিখুশি রাখতেন। চরিত্রের প্রয়োজনে যেকোনো গেটআপে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা ছিল তাঁর।

  • দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি প্রেম: অন্য দেশের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে ভালোবেসে জাভেদ এখানেই স্থায়ী হন। তাঁর চমৎকার বাংলা বলা এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি অগাধ প্রেম সবাইকে মুগ্ধ করত।

  • অসুস্থতা ও বিদায়: দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। রোজিনা নিয়মিত তাঁর ও তাঁর পরিবারের খোঁজ রাখতেন। গুণী এই শিল্পীর চলে যাওয়া ঢাকাই সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে রোজিনা তাঁর আত্মার শান্তি ও জান্নাত কামনা করেন।

১৯৬৪ সালে ‘নয়ি জিন্দেগি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ‘ড্যান্সিং হিরো’ ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘নরম গরম’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের

‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা

Update Time : ০২:০০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঢাকাই সিনেমার সোনালী যুগের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ ৮২ বছর বয়সে উত্তরার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার এই প্রয়াণে চলচ্চিত্র পাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জাভেদের প্রয়াণে গভীর আবেগ প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর বহু সফল সিনেমার জুটি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা রোজিনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:

  • প্রথম পরিচয় ও সহযোগিতা: বিএফডিসি চত্বরে নবাগত রোজিনার প্রথম সিনেমায় জাভেদ অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং ড্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। নতুন হিসেবে রোজিনার মনের ভয় দূর করে নাচের কঠিন মুদ্রা শিখতে জাভেদ দারুণ সহযোগিতা করেছিলেন।

  • সফল জুটি: পরবর্তীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে জাভেদের বিপরীতে অভিনয় করার সুযোগ পান রোজিনা। তাঁরা দুজনে মিলে একসঙ্গে বহু ব্যবসাসফল পারিবারিক, সামাজিক ও ফ্যান্টাসি সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

  • ব্যক্তিত্ব ও গুণাবলী: বিশাল তারকা হওয়া সত্ত্বেও জাভেদের মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। তিনি সেটের ছোট-বড় সবার সঙ্গে সমানভাবে মিশতেন। অত্যন্ত সরল, নিরহংকার ও সদালাপী এই মানুষটি শুটিং সেটের পরিবেশ সবসময় হাসিখুশি রাখতেন। চরিত্রের প্রয়োজনে যেকোনো গেটআপে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা ছিল তাঁর।

  • দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি প্রেম: অন্য দেশের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশকে ভালোবেসে জাভেদ এখানেই স্থায়ী হন। তাঁর চমৎকার বাংলা বলা এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি অগাধ প্রেম সবাইকে মুগ্ধ করত।

  • অসুস্থতা ও বিদায়: দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। রোজিনা নিয়মিত তাঁর ও তাঁর পরিবারের খোঁজ রাখতেন। গুণী এই শিল্পীর চলে যাওয়া ঢাকাই সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে রোজিনা তাঁর আত্মার শান্তি ও জান্নাত কামনা করেন।

আরও পড়ুন  মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা—ফাঁস হলো ‘জন নায়গন’ বিপাকে থালাপতি বিজয়

১৯৬৪ সালে ‘নয়ি জিন্দেগি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ‘ড্যান্সিং হিরো’ ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘নরম গরম’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।