এস জানকির মৃত্যু দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে। ‘দক্ষিণ ভারতের নাইটিঙ্গেল’ নামে পরিচিত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এস জানকি ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। শনিবার কর্ণাটকের মহীশূরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতজগতে অসামান্য অবদান রাখা এই শিল্পীর বিদায়ে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রজনীকান্ত, কমল হাসান, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়সহ অসংখ্য তারকা।
এস জানকির মৃত্যু-র খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত, শিল্পী ও সহকর্মীরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
১৯৫৭ সালে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সংগীতজীবন শুরু করেছিলেন এস জানকি। এরপর টানা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালয়ালম, হিন্দিসহ ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ৪৮ হাজার গান রেকর্ড করেন। অসাধারণ কণ্ঠ, আবেগময় পরিবেশনা এবং বহুমাত্রিক গায়কির জন্য তিনি দক্ষিণ ভারতীয় সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
এস জানকির মৃত্যু-র সঙ্গে শেষ হলো ভারতীয় সংগীতের একটি গৌরবময় অধ্যায়। কর্মজীবনে তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে গানের জন্য পেয়েছেন ৩৩টি রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও কোটি শ্রোতার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
জানকির জীবনের একটি আলোচিত অধ্যায় ছিল ২০১৩ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ সম্মান প্রত্যাখ্যান করা। তাঁর বক্তব্য ছিল, দীর্ঘ সংগীতজীবনের তুলনায় এই স্বীকৃতি অনেক দেরিতে এসেছে। তিনি মনে করতেন, তাঁর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হলে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন পাওয়া উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।
এস জানকির মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, ভারতীয় সংগীতের এক স্বর্ণালি যুগের অবসান। তাঁর গাওয়া হাজারো গান আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কোটি ভক্তের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন তাঁর অমর কণ্ঠ আর অসাধারণ সংগীতের মাধ্যমে।


























