প্রীতি জিনতা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছেন। বোম্বে হাইকোর্ট তাঁর নামে ছড়িয়ে পড়া ডিপফেক ভিডিও, এআই দিয়ে তৈরি ছবি, মরফড কনটেন্ট এবং অনুমতি ছাড়া প্রকাশিত ভিডিও দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া তাঁর পরিচয় বা ছবি ব্যবহার করে এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
সম্প্রতি প্রীতি জিনতা বোম্বে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁর নামে অসংখ্য ডিপফেক ভিডিও, এআই-নির্ভর ভুয়া ছবি এবং বিকৃত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব কনটেন্ট অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁর অনুমতি ছাড়া এমন ছবি বা ভিডিও ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ারও আবেদন জানান তিনি।
মামলায় গুগল, মেটাসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে গত বুধবার বিচারপতি মাধব জামদারের বেঞ্চ প্রীতি জিনতার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত ইন্টারনেটে থাকা সব ভুয়া ভিডিও, মরফড ছবি এবং অননুমোদিত কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
রায়ে আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তির ছবি, পরিচয় বা ব্যক্তিত্ব তাঁর সম্মতি ছাড়া ব্যবহার করে কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি তাঁর মৌলিক অধিকারও ক্ষুণ্ন করে। আদালতের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব হলো এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। অন্যথায় নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে তারাও মুক্ত থাকতে পারবে না।
শুনানিতে প্রীতি জিনতার আইনজীবী জানান, প্রায় ২৭৫টি ওয়েবসাইটে অভিনেত্রীর নামে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে রয়েছে। এসব কনটেন্টে তাঁর চেহারা ও ব্যক্তিত্বের অপব্যবহার করা হয়েছে, যা তাঁর সুনাম ও পেশাগত ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। আদালত এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুরক্ষাকে আইনি অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, প্রীতি জিনতা গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তাই তাঁর ছবি, পরিচয় ও ব্যক্তিত্বের অননুমোদিত ব্যবহার তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার, প্রচারসংক্রান্ত অধিকার এবং নৈতিক অধিকারের পরিপন্থী। এই রায় ভবিষ্যতে ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।




























