জিতের নতুন সিনেমা ঘিরে টালিউডে বদলে গেছে স্বাধীনতা দিবসের মুক্তির সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, ১৫ আগস্টের ছুটিকে কেন্দ্র করে বড় পর্দায় মুখোমুখি হতে পারেন টালিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা জিত ও দেব। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে, জিত অভিনীত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ নির্ধারিত সময়েই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। অন্যদিকে একই সময় মুক্তির কথা থাকলেও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে দেব অভিনীত ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’।
দেব নিজেই জানালেন মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার খবর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেব। তিনি লেখেন,
“প্রতিটি যাত্রার একটা নিজস্ব সঠিক সময় থাকে। আপনাদের কাছে যাতে এই ছবি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে পারি, তাই আপাতত ছবির মুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।”
ভক্তদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন,
“আমি জানি, আপনারা এই ছবি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু আরও কিছু দিন ধৈর্য ধরতে হবে।”
দেবের এই বার্তার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে ছবির নতুন মুক্তির তারিখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কবে সিনেমাটি মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
কেন বদলে গেল মুক্তির পরিকল্পনা?
দুই ছবিরই প্রযোজক প্রদীপ কুমার নন্দী। মুক্তির সূচি পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর শুটিং, সম্পাদনা, ডাবিং, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরসহ সব ধরনের পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’-এর ভিএফএক্স, সাউন্ড ডিজাইন, কালার গ্রেডিং এবং অন্যান্য পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ এখনও চলমান। অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে সিনেমা মুক্তি না দিয়ে আরও সময় নিয়ে দর্শকদের সামনে পরিপূর্ণ একটি চলচ্চিত্র উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে জিতের বাজি
ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্ট বরাবরই বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পেয়ে থাকে। ছুটির এই সময়ে দর্শক উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নির্মাতারা এটিকে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুক্তির সময় হিসেবে বিবেচনা করেন।
এবার সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন জিত। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবির নাম ঘোষণার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ছবির নামেই রয়েছে রহস্যের ইঙ্গিত—এটি কি একজন বিপ্লবীর গল্প, নাকি একজন ডাকাতের? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে সিনেমা মুক্তির পর।
ছবির গল্পে কী থাকতে পারে?
প্রযোজনা সংস্থা এখনও গল্পের পুরো বিষয়বস্তু প্রকাশ না করলেও জানা গেছে, এটি একটি অ্যাকশন-ড্রামা ঘরানার সিনেমা। স্বাধীনতা সংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য, ন্যায়-অন্যায় এবং এক রহস্যময় চরিত্রকে ঘিরেই এগোবে ছবির কাহিনি।
জিতকে ছবিতে একেবারে নতুন লুকে দেখা যাবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। ইতোমধ্যেই সিনেমাটির পোস্টার ও নাম সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
দেবের ছবির প্রতি আগ্রহও কম নয়
অন্যদিকে ‘বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা’ ছবিটি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ কম নয়। ছবির শিরোনাম থেকেই বোঝা যায়, এটি সমাজসেবামূলক এক বাস্তবধর্মী গল্পের ওপর নির্মিত। করোনাকালসহ বিভিন্ন সংকটে মোটরসাইকেলে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের জীবনসংগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছবির কাহিনি নির্মিত হয়েছে বলে টালিউডে আলোচনা রয়েছে।
দেব বরাবরই ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের চেষ্টা করেন। ফলে এই ছবিটি নিয়েও দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
একই প্রযোজকের কৌশলগত সিদ্ধান্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্রযোজকের দুটি বড় বাজেটের সিনেমা একই সময়ে মুক্তি পেলে ব্যবসায়িকভাবে একে অপরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই একটি ছবি প্রস্তুত থাকলেও অন্যটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় মুক্তি না দিয়ে আলাদা সময়ে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দুটি সিনেমাই পর্যাপ্ত হল, প্রচারণা এবং দর্শক পাওয়ার সুযোগ পাবে।
দর্শকদের অপেক্ষা আরও কিছুদিন
স্বাধীনতা দিবসে তাই বড় পর্দায় দেখা যাবে জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। আর দেবের ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন। নতুন মুক্তির তারিখ শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টালিউডে দুই সুপারস্টারের সিনেমা নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বরাবরই তুঙ্গে থাকে। যদিও এবার মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে না, তবুও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দুটি ছবিই বক্স অফিসে জমজমাট প্রতিযোগিতা উপহার দিতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।




























