সাইফ আলী খান হামলা নিয়ে দেড় বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। নিজের বাসভবনে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় এবার হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, সময়ের সঙ্গে ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। এখন তাঁর মনে হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ক্ষতি করতে আসেননি, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
গত বছরের জানুয়ারিতে গভীর রাতে মুম্বাইয়ের বাসভবনে হামলার শিকার হন সাইফ আলী খান। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে মেরুদণ্ডের খুব কাছ থেকে ছুরির একটি ভাঙা অংশ বের করেন। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য এদিক-ওদিক হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, তিনি মনে করেন হামলাকারী বড় ধরনের ভুল করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, যদি সেদিন আলো জ্বালিয়ে শান্তভাবে কথা বলা যেত, তাহলে হয়তো ঘটনা এত দূর গড়াত না। এমনকি তিনি বলেন, হামলাকারীর দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিষয়টি ভেবে তাঁর খারাপ লাগে এবং সুযোগ পেলে তাঁকে ক্ষমা করে দিতেই চান।
অভিনেতা আরও জানান, ঘটনার সময় তাঁর ছোট ছেলে তৈমুরও সেখানে ছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার সময় তৈমুরের উদ্বিগ্ন প্রশ্ন আজও তাঁকে নাড়া দেয়। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে সাইফ বলেন, তিনি নিজেও ভেবেছিলেন হয়তো আর বাঁচবেন না। তবে পরিবারের সাহস ও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তদন্তে মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শেহজাদই হামলার সঙ্গে জড়িত। ইতোমধ্যে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে সাইফ মনে করেন, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; সমাজে আর্থসামাজিক বৈষম্যও এমন অপরাধের পেছনে বড় কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, কিছু মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদেই ভুল পথে পা বাড়ায়।
সাইফ আলী খানের এই মানবিক মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তাঁর উদার মানসিকতার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন এত বড় হামলার পরও ক্ষমার কথা বলা সহজ নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—জীবন-মৃত্যুর লড়াই থেকে ফিরে এসে সাইফ প্রতিশোধ নয়, বরং সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।
























