ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রোনালদোর সেই জটিল রোগে আক্রান্ত মুসিয়ালা, কী হলো? Logo রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ফল ঘোষণা হবে তাৎক্ষণিক Logo ম্যারাডোনার কিডনি নিয়ে চিকিৎসকদের বড় ভুল, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সুখবর, র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ হাসান-তামিমদের Logo ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’: ওসি দিদারুল ইসলাম চন্দনাইশ থানার উদ্যোগে মাদক বিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ Logo বিধায়কদের সুবিধা: তামিলনাড়ুতে বড় ঘোষণা, শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক Logo ইরানে পারমাণবিক হামলা? যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি Logo চন্দনাইশের দোহাজারীতে স্বামীর কোদালেরঘাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী এক ঘন্টার মধ্যে আটক Logo বাংলাদেশ হকি দলের প্রস্তুতি: জার্মানি অনিশ্চিত, চীন-মিসরে নতুন পরিকল্পনা Logo ভারত-শ্রীলঙ্কা টেস্ট: সুতারের দুর্দান্ত ১০ উইকেটে ভারতের স্মরণীয় জয়

অ্যাডাল্ট সনদ নিয়েই কি অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে আসছে বিজয়ের শেষ সিনেমা

জন নায়গন সিনেমা পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। ছবি: সংগৃহীত।

জন নায়গন সিনেমা ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস অপেক্ষার পর অবশেষে মুক্তির পথে এগোচ্ছে তামিল সুপারস্টার ও বর্তমান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা। তবে মুক্তির আগেই এসেছে নতুন চমক। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ (অ্যাডাল্ট) সনদ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাতাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিএফসির পর্যালোচনার পর নির্মাতাদের কাছে সংশোধনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পাদনা ও ডাবিংয়ের কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক শেষ হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে জন নায়গন সিনেমা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশনসের সুপ্রিথ মোহনও একই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

পরিচালক এইচ বিনোধের রাজনৈতিক নাট্যধর্মী এই সিনেমাটি প্রথমে ২০২৬ সালের পঙ্গল উৎসবে মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ, এটি বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ চলচ্চিত্র। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দল গঠন এবং পরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ফলে ভক্তদের কাছে জন নায়গন সিনেমা শুধু একটি ছবি নয়, বরং বিজয়ের অভিনয় ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

মুক্তি বিলম্বের পেছনে ছিল একাধিক বিতর্ক। প্রথমে পরীক্ষক কমিটি কয়েকটি কাটছাঁটের শর্তে ইউ/এ সনদের সুপারিশ করলেও পরে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ছবিটি পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ছবির কয়েকটি দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করেছে। এরপর থেকেই ছবিটির সেন্সর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং মুক্তির তারিখ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই আরও বড় ধাক্কা আসে। সেন্সর প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৬ সালের এপ্রিলে জন নায়গন সিনেমা-র কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। ভিডিও ক্লিপগুলো মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম বিভাগ। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বর্তমানে নির্মাতারা সিবিএফসির নির্দেশনা অনুযায়ী শেষ মুহূর্তের সম্পাদনার কাজ শেষ করছেন। সব বাধা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে সিনেমাটি মুক্তি পেলে এটি শুধু বিজয়ের ভক্তদের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি বড় ঘটনা হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোর সেই জটিল রোগে আক্রান্ত মুসিয়ালা, কী হলো?

অ্যাডাল্ট সনদ নিয়েই কি অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে আসছে বিজয়ের শেষ সিনেমা

Update Time : ০৯:২৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

জন নায়গন সিনেমা ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস অপেক্ষার পর অবশেষে মুক্তির পথে এগোচ্ছে তামিল সুপারস্টার ও বর্তমান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বহুল প্রতীক্ষিত এই সিনেমা। তবে মুক্তির আগেই এসেছে নতুন চমক। ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) ছবিটিকে ‘এ’ (অ্যাডাল্ট) সনদ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাতাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে পরিবর্তনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রিন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিএফসির পর্যালোচনার পর নির্মাতাদের কাছে সংশোধনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পাদনা ও ডাবিংয়ের কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক শেষ হলে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে জন নায়গন সিনেমা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশনসের সুপ্রিথ মোহনও একই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  রইদ সিনেমার ঐতিহাসিক সাফল্য, আমেরিকার জাতীয় সম্প্রচারে স্বীকৃতি

পরিচালক এইচ বিনোধের রাজনৈতিক নাট্যধর্মী এই সিনেমাটি প্রথমে ২০২৬ সালের পঙ্গল উৎসবে মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু সেন্সর জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব হয়নি। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের অন্যতম কারণ, এটি বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ চলচ্চিত্র। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দল গঠন এবং পরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। ফলে ভক্তদের কাছে জন নায়গন সিনেমা শুধু একটি ছবি নয়, বরং বিজয়ের অভিনয় ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

আরও পড়ুন  প্রথম সন্তানের মা হতে চলেছেন সামান্থা

মুক্তি বিলম্বের পেছনে ছিল একাধিক বিতর্ক। প্রথমে পরীক্ষক কমিটি কয়েকটি কাটছাঁটের শর্তে ইউ/এ সনদের সুপারিশ করলেও পরে কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে ছবিটি পুনর্বিবেচনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ছবির কয়েকটি দৃশ্য ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করেছে। এরপর থেকেই ছবিটির সেন্সর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং মুক্তির তারিখ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই আরও বড় ধাক্কা আসে। সেন্সর প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৬ সালের এপ্রিলে জন নায়গন সিনেমা-র কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। ভিডিও ক্লিপগুলো মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে তামিলনাড়ু সাইবার ক্রাইম বিভাগ। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন  মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা—ফাঁস হলো ‘জন নায়গন’ বিপাকে থালাপতি বিজয়

বর্তমানে নির্মাতারা সিবিএফসির নির্দেশনা অনুযায়ী শেষ মুহূর্তের সম্পাদনার কাজ শেষ করছেন। সব বাধা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে সিনেমাটি মুক্তি পেলে এটি শুধু বিজয়ের ভক্তদের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি বড় ঘটনা হয়ে উঠবে।