অলকা ইয়াগনিকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে। ভারতের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পী সম্প্রতি পদ্মভূষণ সম্মাননা গ্রহণ করতে গিয়ে হুইলচেয়ারে উপস্থিত হন। তার শারীরিক দুর্বলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তরা তার সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
গত ২৩ জুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-এর হাত থেকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করেন অলকা ইয়াগনিক। সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল গৌরবের, তবে হুইলচেয়ারে তার উপস্থিতি দর্শক ও ভক্তদের মনে উদ্বেগেরও জন্ম দেয়। অনুষ্ঠানে হাঁটার সময় তাকে একজন সহকারীর সাহায্য নিতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অসংখ্য ভক্ত তার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিতে শুরু করেন। ভক্তদের উদ্বেগের জবাবে অলকা ইয়াগনিক ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি জনসমক্ষে খুব কম এসেছেন এবং একটি জটিল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। বর্তমানে নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পদ্মভূষণ সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লেখেন, এই স্বীকৃতি তার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই যাত্রা শুধু তার নিজের নয়, বরং সেই সব শ্রোতারও, যারা কঠিন সময়েও তার পাশে থেকেছেন এবং ভালোবাসা দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেন অলকা ইয়াগনিক। তিনি জানান, একটি বিমান ভ্রমণের পর হঠাৎ করেই শ্রবণক্ষমতা হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, তিনি বিরল স্নায়ুজনিত রোগ ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’-এ আক্রান্ত। এই রোগে কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে অলকা ইয়াগনিক অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় হওয়া গানগুলোর মধ্যে রয়েছে কুছ কুছ হোতা হ্যায়-এর টাইটেল সং, “সাজন”-এর ‘মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায়’, “মোহরা” -এর ‘টিপ টিপ বরসা পানি’, “ধড়কন”-এর ‘দিল নে ইয়ে কাহা হ্যায়’ এবং “তামাশা”-এর ‘আগার তুম সাথ হো’। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন কোটি কোটি ভক্ত ও সংগীতপ্রেমী।



























