ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বর্ষায় ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন Logo পারমাণবিক জাহাজে উত্তর মেরু ঘুরল রাজশাহীর প্রত্যয় Logo রায়গঞ্জে ব্যতিক্রমী ফুটবল আয়োজনে উন্মাদনায় মাতলেন যুবসমাজ Logo বিশ্বের শীর্ষ বন্দর তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৮তম Logo মন ও শরীরের যত্নে প্রতিদিন ২০ মিনিট সময় দিন প্রকৃতিকে Logo কচু খেলে গলা ধরে কেন জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতার কারণ Logo অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলে দিচ্ছেন রূপচর্চায় কাজে লাগা এই উপাদানগুলো Logo দামি স্কিনকেয়ার ছাড়াই সুন্দর ত্বক আর ঝলমলে চুলের সহজ উপায় Logo ভূরুঙ্গামারীতে এনসিপির ৩ মাসের আংশিক কমিটিতে আহ্বায়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ , সদস্য সচিব মোর্শেদুর রহমান আনিস Logo ওজন নিয়ন্ত্রণে স্ন্যাকস খাওয়ার সেরা সময় জানুন

অবসেশন সিনেমা : ১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়

অবসেশন সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অবসেশন সিনেমা রিভিউ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বাজেটে নির্মিত এই স্বাধীন হরর সিনেমা বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৭৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এমন সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কী আছে এই ছবিতে, যা দর্শকদের এতটা আকৃষ্ট করেছে?

সিনেমার গল্প শুরু হয় এক সাধারণ তরুণকে ঘিরে। সে নিজের সহকর্মীকে ভালোবাসলেও কখনো সাহস করে মনের কথা বলতে পারে না। হঠাৎ এক রহস্যময় জাদুকাঠি হাতে পেয়ে সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা তার জীবনকে মুহূর্তেই বদলে দেয়। কিন্তু সেই ইচ্ছাই ধীরে ধীরে ভয়ংকর অভিশাপে পরিণত হয়।

নির্মাতা ক্যারি বার্কার পরিচিত হরর ফর্মুলাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। জাম্প স্কেয়ার, মনস্তাত্ত্বিক ভয়, ডার্ক হিউমার এবং সম্পর্কের জটিলতাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেছেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শুরুতে এটি রোমান্টিক গল্প মনে হলেও পরে তা রক্তাক্ত হরর থ্রিলারে রূপ নেয়।

ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি অভিনয়। মাইকেল জনস্টন সংযত অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তবে ইন্দে নাভারেটের অভিনয়ই সিনেমার প্রাণ। ভালোবাসা, ভয়, উন্মাদনা ও অসহায়ত্ব—সবকিছুই তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অবসেশন সিনেমা রিভিউ-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণশৈলী। সীমিত বাজেটেও সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শককে পুরো সময় পর্দার সঙ্গে আটকে রাখে। প্রতিটি দৃশ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, ফলে ভয় আরও বাস্তব মনে হয়।

ছবির গল্প শুধু অতিপ্রাকৃত শক্তিকে ঘিরে নয়, বরং মানুষের আকাঙ্ক্ষা, একতরফা ভালোবাসা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও তুলে ধরে। এই কারণেই সাধারণ হরর সিনেমার বাইরে গিয়ে এটি মনস্তাত্ত্বিক নাটক হিসেবেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তবে সিনেমাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কিছু জায়গায় গতি ধীর মনে হতে পারে এবং কয়েকটি চরিত্রের গভীরতা আরও বাড়ানো যেত। পাশাপাশি কিছু সহিংস দৃশ্য সংবেদনশীল দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে অবসেশন সিনেমা রিভিউ বলছে, এটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নির্মিত কোনো সাধারণ হরর ছবি নয়। শক্তিশালী গল্প, অসাধারণ অভিনয় এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক হরর, ডার্ক কমেডি এবং টানটান থ্রিলার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘অবসেশন’ হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। কম বাজেটেও যে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে এই ছবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ষায় ত্বকের যত্নে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অবসেশন সিনেমা : ১২ কোটি বাজেটে ৪ হাজার কোটি আয়

Update Time : ০৪:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

অবসেশন সিনেমা রিভিউ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ কোটি টাকা) বাজেটে নির্মিত এই স্বাধীন হরর সিনেমা বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৭৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এমন সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কী আছে এই ছবিতে, যা দর্শকদের এতটা আকৃষ্ট করেছে?

সিনেমার গল্প শুরু হয় এক সাধারণ তরুণকে ঘিরে। সে নিজের সহকর্মীকে ভালোবাসলেও কখনো সাহস করে মনের কথা বলতে পারে না। হঠাৎ এক রহস্যময় জাদুকাঠি হাতে পেয়ে সে এমন একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা তার জীবনকে মুহূর্তেই বদলে দেয়। কিন্তু সেই ইচ্ছাই ধীরে ধীরে ভয়ংকর অভিশাপে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন  এক রাতেই বদলে গেল লাক্স সুন্দরী বর্ণিতার জীবন: ৮-৯ বছরের অপেক্ষার সফল সমাপ্তি

নির্মাতা ক্যারি বার্কার পরিচিত হরর ফর্মুলাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। জাম্প স্কেয়ার, মনস্তাত্ত্বিক ভয়, ডার্ক হিউমার এবং সম্পর্কের জটিলতাকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করেছেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শুরুতে এটি রোমান্টিক গল্প মনে হলেও পরে তা রক্তাক্ত হরর থ্রিলারে রূপ নেয়।

ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি অভিনয়। মাইকেল জনস্টন সংযত অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তবে ইন্দে নাভারেটের অভিনয়ই সিনেমার প্রাণ। ভালোবাসা, ভয়, উন্মাদনা ও অসহায়ত্ব—সবকিছুই তিনি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

অবসেশন সিনেমা রিভিউ-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণশৈলী। সীমিত বাজেটেও সিনেমাটোগ্রাফি, সম্পাদনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শককে পুরো সময় পর্দার সঙ্গে আটকে রাখে। প্রতিটি দৃশ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে তৈরি হয়, ফলে ভয় আরও বাস্তব মনে হয়।

আরও পড়ুন  জহির-সোনাক্ষীর প্রেমের কথা আগেই জানতেন সালমান খান

ছবির গল্প শুধু অতিপ্রাকৃত শক্তিকে ঘিরে নয়, বরং মানুষের আকাঙ্ক্ষা, একতরফা ভালোবাসা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও তুলে ধরে। এই কারণেই সাধারণ হরর সিনেমার বাইরে গিয়ে এটি মনস্তাত্ত্বিক নাটক হিসেবেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তবে সিনেমাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। কিছু জায়গায় গতি ধীর মনে হতে পারে এবং কয়েকটি চরিত্রের গভীরতা আরও বাড়ানো যেত। পাশাপাশি কিছু সহিংস দৃশ্য সংবেদনশীল দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

আরও পড়ুন  সামান্থা সিনেমা দুর্দান্ত সাফল্যে গড়ল অবিশ্বাস্য ইতিহাস

সব মিলিয়ে অবসেশন সিনেমা রিভিউ বলছে, এটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নির্মিত কোনো সাধারণ হরর ছবি নয়। শক্তিশালী গল্প, অসাধারণ অভিনয় এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে এটি চলতি বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়েছে।

যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক হরর, ডার্ক কমেডি এবং টানটান থ্রিলার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘অবসেশন’ হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ। কম বাজেটেও যে বিশ্বমানের সিনেমা তৈরি করা সম্ভব, সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে এই ছবি।