শপআপ মাছের ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের অন্যতম বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপ। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষায়িত মাছ বিতরণ উদ্যোগ মোকাম ফিশ এবার ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় নতুন সংগ্রহ ও বিতরণকেন্দ্র চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মাছ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই হাব গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে।
শপআপের নতুন এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির মাছ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরাসরি মাছ সংগ্রহ করে দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন হাব চালুর ফলে ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা বাজারে আরও দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে মাছ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মাছচাষিরাও তাদের উৎপাদিত মাছ ন্যায্য দামে বিক্রির সুযোগ পাবেন।
মুহুরী প্রজেক্ট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির মাছ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামের মিরসরাই ও ফেনীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে প্রায় ২০ হাজার একর জলাশনে পাঁচ হাজারের বেশি মাছচাষি নিয়মিত মাছ উৎপাদন করছেন। এখান থেকে বছরে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিঠাপানির মাছের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা এই অঞ্চল থেকেই পূরণ হয়।
মোকাম ফিশের ব্যবসা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হাসান জুলকারনাইন বলেন, মুহুরী প্রজেক্টে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ ব্যবস্থা আরও দক্ষ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য হবে। তিনি জানান, স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি সঠিক ওজন, স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং সময়মতো অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। এতে চাষি ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই লাভবান হবেন।
বর্তমানে মোকাম ফিশের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১২১ কোটির বেশি টাকার মাছ বিক্রি হয়। বিশেষ করে পাঙাশ মাছের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, পরিবহনকর্মী এবং সরবরাহকারীসহ ছয় হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নতুন হাব চালুর ফলে এই কর্মসংস্থান আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন প্রকল্পে মূলত রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্প, তেলাপিয়া ও কই মাছ সংগ্রহ ও বাজারজাত করা হবে। মুহুরী প্রজেক্ট এসব মাছ উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত হওয়ায় মোকাম ফিশ সরাসরি প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে মাছ কিনে বাজারে সরবরাহ করবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমবে এবং খামারিরা উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, মুহুরী প্রজেক্টে নতুন হাব চালুর পর এই অঞ্চল থেকেই প্রতি মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিঠাপানির মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে মনে করছে শপআপ।
শপআপ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) কমার্স প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল সেবা প্রদান করে। মাছ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি মোকাম ফিশ নামে বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনা করছে। বর্তমানে শপআপ সিল্ক (Sary + ShopUp) আঞ্চলিক বিটুবি কমার্স ও ফিনটেক ইকোসিস্টেমের অংশ, যা সৌদি আরবভিত্তিক সারি (Sary)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাছের বাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সরাসরি খামারিদের সঙ্গে কাজ করার এই উদ্যোগ দেশের মৎস্য খাতকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সব পক্ষই এর সুফল পাবে। শপআপের এই নতুন বিনিয়োগ ভবিষ্যতে দেশের মাছের সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।



























