মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পীর জানাজা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।
সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তার ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় প্রথমে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহ আনা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ-এ আধা ঘণ্টার জন্য মরদেহ রাখা হবে, যাতে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা শেষ বিদায় জানাতে পারেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চারুকলা অনুষদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলের মধ্যেই তাকে বনানী কবরস্থান-এ দাফন করা হবে। বর্তমানে তার মরদেহ বাসায় রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীরা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করছেন।
সোমবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে যেতে হয়েছিল এই শিল্পীকে।
মুস্তাফা মনোয়ার বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। তিনি শিক্ষক, চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং পাপেট শোর পথিকৃৎ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন এবং ২০১৮ সালে অর্জন করেন সুলতান স্বর্ণপদক। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যু দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


























