দেলুপি সিনেমা এবার প্রশংসা কুড়িয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ-এর কাছ থেকে। বাংলাদেশের স্বাধীনধারার এই চলচ্চিত্রটি দেখে তিনি নিজের ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তার মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
রোববার নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি সিনেমাভিত্তিক জনপ্রিয় রিভিউ প্ল্যাটফর্ম লেটারবক্স-এ অনুরাগ কাশ্যপের দেওয়া মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, এমন প্রশংসা পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
লেটারবক্সে দেওয়া মন্তব্যে অনুরাগ কাশ্যপ লিখেছেন, ‘দেলুপি’ একটি ছোট গ্রামের গল্প হলেও এর ভেতরে ক্ষমতার রাজনীতির গভীর প্রভাব ফুটে উঠেছে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পর বন্যাকবলিত একটি গ্রামের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার গল্প এতটাই মানবিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে এটি যেকোনো মানুষের নিজের আশপাশের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি মনে হতে পারে। সিনেমাটি তার খুব ভালো লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় দেলুপি। খুলনার দক্ষিণাঞ্চলের জীবন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীভাঙন এবং প্রান্তিক মানুষের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। বাস্তবধর্মী এই উপস্থাপনাই চলচ্চিত্রটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সিনেমার কাহিনিতে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভয়াবহ বন্যায় একটি গ্রাম দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যাত্রাশিল্পী পরিবারের সন্তান পার্থ নিজের পরিবারকে ভেঙে পড়তে দেখেন। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন চিরঞ্জিৎ বিশ্বাস। অন্যদিকে পাশের গ্রামের নূপুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অদিতি রায়। তাদের সম্পর্কের গল্প সিনেমার মানবিক আবেগকে আরও গভীর করেছে।
দেশে মুক্তির পর দেলুপি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সিনেমাটি আলোচনায় আসে এবংআন্তর্জাতিক স্বীকৃতি -এর প্রদর্শনী তালিকায় জায়গা করে নেয়। অনুরাগ কাশ্যপের প্রশংসা সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীনধারার সিনেমাকে বিশ্বদরবারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করবে।


























