মালিক সিনেমা মুক্তির আগে দর্শকদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বড় তারকা, শক্তিশালী খলনায়ক, অ্যাকশন আর চমক—সবকিছুই ছিল ছবিটিতে। কিন্তু মুক্তির পর দেখা গেল, এত আয়োজনের পরও দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি সিনেমাটি। ফলে ঈদের বড় বাজেটের এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
সাইফ চন্দন পরিচালিত ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে বেরিগঞ্জের একটি জেটিঘাটকে ঘিরে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। একসময় নির্যাতনের শিকার হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়া এক নারী ২০ বছর পর ছেলে আমিরকে নিয়ে ফিরে আসেন। এরপরই শুরু হয় ক্ষমতা ও প্রতিশোধের নতুন অধ্যায়।
আমির চরিত্রে আরিফিন শুভর উপস্থিতি ছবির শুরুতে দর্শকদের আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো বেশ নজর কেড়েছে। তবে গল্প যত এগিয়েছে, ততই চিত্রনাট্যের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। ফ্ল্যাশব্যাক ও বর্তমান সময়ের দৃশ্যের মিশ্রণে অনেক ক্ষেত্রে গল্পের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে মায়াবতী চরিত্রে বিদ্যা সিনহা মিমের উপস্থিতি গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করার কথা থাকলেও সেই সম্পর্ককে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা যায়নি। কিছু দৃশ্য ও গানের উপস্থাপনাও দর্শকদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিনয়ের ক্ষেত্রে মিশা সওদাগর ও বড়দা মিঠু তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলেছেন। আরিফিন শুভ অ্যাকশন দৃশ্যে সাবলীল থাকলেও আবেগঘন অংশে কাঙ্ক্ষিত গভীরতা দেখা যায়নি। পাশাপাশি সহশিল্পীদের মধ্যে আজিজুল হাকিম ও মনিরা মিঠুর উপস্থিতিও দর্শকের নজর কেড়েছে।
সব মিলিয়ে ‘মালিক’ একটি বড় আয়োজনের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র। গান, আবহসংগীত ও কিছু অ্যাকশন দৃশ্য প্রশংসা পাওয়ার মতো হলেও দুর্বল চিত্রনাট্য ও নির্মাণগত সীমাবদ্ধতার কারণে ছবিটি প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দর্শকদের মনে কিছুটা অপূর্ণতার অনুভূতি রেখে গেছে সিনেমাটি।



























