ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়ার বড় অংশে দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান নিয়েও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা, জব্দকৃত কিছু ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সুযোগ দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পথ অনেকটাই পরিষ্কার এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং তেহরান তাদের “লাল রেখা” বা মৌলিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আলোচনার খসড়ার উল্লেখযোগ্য অংশ চূড়ান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও শেষ মুহূর্তে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে। এই বিষয়টি চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমতে পারে, তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও আস্থার ঘাটতি থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

























