ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, শেষ হচ্ছে যুদ্ধের অধ্যায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • ৫১১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তি নিয়ে সমঝোতার প্রতীকী ছবি।

যুদ্ধ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই সমঝোতাকে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে। তার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।” তার এই বক্তব্য দ্রুত বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বাধা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আবারও স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প তার বার্তায় বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য তেলের প্রবাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে চুক্তির খবর প্রচার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে। ফলে চুক্তির বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দাবি করেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যমও এই চুক্তিকে ইরানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

চুক্তির পেছনে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ইসরায়েলের ওই হামলার তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বৈরুত হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, প্রয়োজন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়াকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কারণ কয়েক দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা ছিল প্রবল। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

ট্রাম্পও বৈরুত হামলার সমালোচনা করে বলেন, এমন একটি দিনে এ ধরনের হামলা হওয়া উচিত হয়নি, যখন দুই দেশ শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। তার এই মন্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করার একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এতে আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পিত চুক্তির অংশ নয়। দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিগত মতপার্থক্যের কথাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিশেষ করে লেবাননে সামরিক অভিযান কমানোর বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য দেখা গেছে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এর আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটিকে যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও ৬০ দিনের সময় রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্যও একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এছাড়া নতুন কোনো পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, শেষ হচ্ছে যুদ্ধের অধ্যায়

Update Time : ০৯:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই সমঝোতাকে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চুক্তির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সমঝোতা হয়েছে। তার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।” তার এই বক্তব্য দ্রুত বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বাধা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আবারও স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প তার বার্তায় বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য তেলের প্রবাহ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী: রাজনৈতিক উত্থান, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ

যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে চুক্তির খবর প্রচার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই সমঝোতার বিষয়টি তুলে ধরে। ফলে চুক্তির বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দাবি করেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এবং রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যমও এই চুক্তিকে ইরানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে বিষয়টি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

চুক্তির পেছনে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ইসরায়েলের ওই হামলার তীব্র সমালোচনা করেন ইরানের আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন  ফ্রি বাসা ও চাকরির সুযোগ দিচ্ছে স্পেনের গ্রাম, তবে সবার জন্য নয়

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বৈরুত হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, প্রয়োজন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়াকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কারণ কয়েক দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা ছিল প্রবল। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর ইঙ্গিত মিলছে।

ট্রাম্পও বৈরুত হামলার সমালোচনা করে বলেন, এমন একটি দিনে এ ধরনের হামলা হওয়া উচিত হয়নি, যখন দুই দেশ শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিল। তার এই মন্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করার একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এতে আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পিত চুক্তির অংশ নয়। দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিগত মতপার্থক্যের কথাও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিশেষ করে লেবাননে সামরিক অভিযান কমানোর বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য দেখা গেছে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, এর আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটিকে যুদ্ধবিরতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সেন্টকমের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও ৬০ দিনের সময় রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্যও একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।

ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করে দেবে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এছাড়া নতুন কোনো পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার বিষয়েও সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিকে।