ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হতাশা নয়, ছোট সুযোগেই গড়ুন ক্যারিয়ার: তরুণদের জন্য বার্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৭

হতাশা নয়, ছোট সুযোগ থেকেই শুরু হতে পারে বড় সাফল্য। ইন্টার্নশিপ, দক্ষতা ও পরিশ্রমই গড়ে তুলতে পারে আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার।

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থান বাজারেও। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আগের তুলনায় সুযোগ কমে এসেছে এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া ভালো চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে বসে না থেকে ছোট সুযোগ দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করা হতে পারে সফলতার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ‘গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইউথ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী তরুণদের বেকারত্বের হার এখনও উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে নতুন স্নাতকদের বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তবে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশার উদাহরণ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী তরুণ বেন চালিসের গল্প বর্তমানে অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি একের পর এক চাকরির আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হন। তবু তিনি হাল ছাড়েননি এবং একটি স্বল্পমেয়াদি শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মাত্র তিন সপ্তাহের সেই শিক্ষানবিশ সুযোগই বদলে দেয় তার জীবন। নিজের দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং শেখার আগ্রহের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করেন। পরে তাকে স্থায়ী চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এই ঘটনাকে তরুণদের জন্য বাস্তব শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশের তরুণদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। চাকরির বিজ্ঞাপনে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়ার বিষয়টি অনেক নতুন প্রার্থীকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে অনেকেই আবেদন করার আগেই পিছিয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানসিকতা পরিবর্তন করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর ‘ফিউচার অব জবস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক চাকরির বাজারে শুধুমাত্র একাডেমিক ফল নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দ্রুত শেখার মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ছোট কাজের অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যতে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।

ক্যারিয়ারের শুরুটা সব সময় বড় পদ দিয়ে হয় না। অনেক সফল পেশাজীবীই ইন্টার্নশিপ, পার্টটাইম চাকরি কিংবা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের কর্মজীবন শুরু করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা শুধু দক্ষতা বাড়ায় না, বরং পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের উচিত নতুন দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া। ডিজিটাল স্কিল, ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদার তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন কোর্স, স্বেচ্ছাসেবী কাজ এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের অভিজ্ঞতাও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরিবর্তে ছোট সুযোগকে কাজে লাগানোই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। স্বল্পমেয়াদি কাজ বা ইন্টার্নশিপ অনেক সময় স্থায়ী চাকরির দরজা খুলে দেয়। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রমাণ করতে পারলে ভবিষ্যতের বড় সুযোগ তৈরি হওয়া সহজ হয়।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও তরুণদের জন্য বার্তা একটাই—হতাশ না হয়ে কাজ শুরু করুন। ছোট সুযোগকে অবহেলা না করে শেখার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস—সবই ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে। আর সেই পথ ধরেই বেকারত্বের বাধা পেরিয়ে একটি সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল

হতাশা নয়, ছোট সুযোগেই গড়ুন ক্যারিয়ার: তরুণদের জন্য বার্তা

Update Time : ১০:৫৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থান বাজারেও। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আগের তুলনায় সুযোগ কমে এসেছে এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া ভালো চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে বসে না থেকে ছোট সুযোগ দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করা হতে পারে সফলতার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ‘গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রেন্ডস ফর ইউথ’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী তরুণদের বেকারত্বের হার এখনও উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে নতুন স্নাতকদের বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তবে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশার উদাহরণ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী তরুণ বেন চালিসের গল্প বর্তমানে অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি একের পর এক চাকরির আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হন। তবু তিনি হাল ছাড়েননি এবং একটি স্বল্পমেয়াদি শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মাত্র তিন সপ্তাহের সেই শিক্ষানবিশ সুযোগই বদলে দেয় তার জীবন। নিজের দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং শেখার আগ্রহের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানের আস্থা অর্জন করেন। পরে তাকে স্থায়ী চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এই ঘটনাকে তরুণদের জন্য বাস্তব শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশের তরুণদের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। চাকরির বিজ্ঞাপনে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়ার বিষয়টি অনেক নতুন প্রার্থীকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে অনেকেই আবেদন করার আগেই পিছিয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানসিকতা পরিবর্তন করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর ‘ফিউচার অব জবস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক চাকরির বাজারে শুধুমাত্র একাডেমিক ফল নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং দ্রুত শেখার মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ছোট কাজের অভিজ্ঞতাও ভবিষ্যতে বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।

ক্যারিয়ারের শুরুটা সব সময় বড় পদ দিয়ে হয় না। অনেক সফল পেশাজীবীই ইন্টার্নশিপ, পার্টটাইম চাকরি কিংবা শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের কর্মজীবন শুরু করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা শুধু দক্ষতা বাড়ায় না, বরং পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের উচিত নতুন দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া। ডিজিটাল স্কিল, ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা এবং দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এখন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের চাহিদার তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন কোর্স, স্বেচ্ছাসেবী কাজ এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের অভিজ্ঞতাও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

চাকরির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পরিবর্তে ছোট সুযোগকে কাজে লাগানোই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। স্বল্পমেয়াদি কাজ বা ইন্টার্নশিপ অনেক সময় স্থায়ী চাকরির দরজা খুলে দেয়। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা ও আন্তরিকতা প্রমাণ করতে পারলে ভবিষ্যতের বড় সুযোগ তৈরি হওয়া সহজ হয়।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অনিশ্চয়তার মধ্যেও তরুণদের জন্য বার্তা একটাই—হতাশ না হয়ে কাজ শুরু করুন। ছোট সুযোগকে অবহেলা না করে শেখার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে গেলে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস—সবই ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে। আর সেই পথ ধরেই বেকারত্বের বাধা পেরিয়ে একটি সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।