ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হত্যাচেষ্টা মামলা

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার থানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিনের বাবা এম. এস. আজাদ উজ জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাদের পরিচয় শনাক্ত হলে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিলেও তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন,

“পিবিআই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে একদল ব্যক্তি ঘিরে ধরে মারধর করে। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ ওঠে।

মারধরের ঘটনায় মাহিন গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

মাহিনের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল এবং হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর ক্ষতি করা। তাই তারা সাধারণ মারধরের পরিবর্তে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত মামলায় নাম উল্লেখ থাকা রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বির কিংবা অন্য আসামিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।

আদালতের নির্দেশনার পর পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা না মিললে সে বিষয়েও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দিপু, সম্পাদক জালাল

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হত্যাচেষ্টা মামলা

Update Time : ১১:১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজশাহীর মতিহার থানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহিনের বাবা এম. এস. আজাদ উজ জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ১৭-১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তদন্তে তাদের পরিচয় শনাক্ত হলে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবোঝাই লরিতে আগুন

বাদীপক্ষের আইনজীবী হযরত আলী জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিলেও তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেননি। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন,

“পিবিআই তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেবেন।”

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনকে একদল ব্যক্তি ঘিরে ধরে মারধর করে। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পাশাপাশি ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন  রাবি ক্যাম্পাসে মাটির নিচে পুরনো বিস্ফোরক, পুলিশের তৎপরতায় নিস্ক্রিয়

মারধরের ঘটনায় মাহিন গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

মাহিনের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল এবং হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর ক্ষতি করা। তাই তারা সাধারণ মারধরের পরিবর্তে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত মামলায় নাম উল্লেখ থাকা রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বির কিংবা অন্য আসামিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন  লক্ষ্মীপুরে মামলা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা

আদালতের নির্দেশনার পর পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা না মিললে সে বিষয়েও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।