ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা Logo ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও ডাকঘর এখন তামাকমুক্ত Logo জেন-জি ভাষা: ভারতের সংসদে ভাইরাল ট্রেন্ডের চমকপ্রদ ব্যবহার ২০২৬ Logo Claude চ্যাট প্রাইভেসি: কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখবেন Logo ফিফার নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক, সদস্যদের ৪ কোটি ডলারের প্রস্তাব Logo প্রাচীন মানুষের পদচিহ্নে মিলল ১৪ লাখ বছরের পুরোনো নতুন তথ্য Logo জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জন্মহার সংকট Logo জরুরি আপডেট: গভীর নিম্নচাপ দুর্বল, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল Logo সেদ্ধ ডিম নাকি ভাজি, ওজন কমাতে কোনটি বেশি কার্যকর? Logo চন্দনাইশে দুর্গাপূজা ২০২৬: মন্দিরের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রদান

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি, ৩ লাখকে ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

বাংলাদেশে অবস্থানরত ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি মিয়ানমার।

বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে মিয়ানমার শুধু বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরই নয়, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সহযোগিতার ইতিবাচক ফল বলে উল্লেখ করেন।

মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দেশটি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু এতদিন বড় সমস্যা ছিল, মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হচ্ছিল না। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং এ বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও সংঘাতের কারণে পালিয়ে যাওয়া বহু রোহিঙ্গা বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই সম্মতি বাস্তবে কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধান ও রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ প্রক্রিয়া সফল হবে না বলেও তারা মনে করছেন।

এদিকে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ মানবিক সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মনে করছে দেশটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি, ৩ লাখকে ফেরত নিতে সম্মত মিয়ানমার

Update Time : ১১:০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি মিয়ানমার।

বুধবার (২৯ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে মিয়ানমার শুধু বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরই নয়, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও প্রথম ধাপে ফিরিয়ে নিতে সম্মতি দিয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সহযোগিতার ইতিবাচক ফল বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  ইসরাইলি নাগরিক নিয়ে তোলপাড়, কঠোর সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্যোগ নিলেও মিয়ানমার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দেশটি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু এতদিন বড় সমস্যা ছিল, মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হচ্ছিল না। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং এ বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও সংঘাতের কারণে পালিয়ে যাওয়া বহু রোহিঙ্গা বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গা জড়ো হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের কুয়ালালামপুর, সেলাঙ্গর ও পেনাংয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।

বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এই সম্মতি বাস্তবে কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধান ও রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ প্রক্রিয়া সফল হবে না বলেও তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন  আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য

এদিকে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ মানবিক সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মনে করছে দেশটি।