মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে মালয়েশিয়া অনড় এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশে ইসরাইলি নাগরিক প্রবেশ করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। যদি ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে তাদের মালয়েশিয়ায় থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না। যেহেতু আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না, তাই তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরাইলি নাগরিক মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। একই ধরনের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, ইসরাইলি নাগরিকরা নিজেদের পরিচয় গোপন করতে অন্য দেশের নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করছেন। যদিও এসব দাবির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের পর জোহর রাজ্য সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ফরেস্ট সিটিতে পরিচালিত প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটি ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’-এর কার্যক্রম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির একটি কর্মসূচির সঙ্গে ইসরাইলি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এ কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত প্রয়োজন।
এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) ফরেস্ট সিটির ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে বর্তমানে বিশ্বের ৪০টি দেশের মোট ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ১৪ জুলাই পরিচালিত যৌথ অভিযানে ইস্কান্দার পুতেরি সিটি কাউন্সিল, মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন, জোহর রাজ্য সরকারের সচিবের কার্যালয় এবং রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ অংশ নেয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই ২৬৬ জন বিদেশির সবার কাছেই বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে। তবে তারা প্রবেশের শর্ত, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিধান যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
জাকারিয়া শাবান জানান, পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি, অভিবাসন-সুবিধার অপব্যবহার কিংবা প্রবেশের শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তদন্তে কেউ আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ‘টেকনো-অপটিমিস্ট’দের জন্য পরিচালিত এই আবাসিক কমিউনিটিতে মাসিক এক হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ফি নেওয়া হয়। এই ফি-এর মধ্যে আবাসন, খাবার, জিম এবং অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।



























