ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

১০ বিল পাসের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ সংসদের বাজেট অধিবেশন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

ত্রয়োদশ-সংসদের-বাজেট-অধিবেশন-সমাপ্ত সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন বা বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ১০টি বিল পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠনের মাধ্যমে অধিবেশন শেষ হয়েছে। সংসদের কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ ও অংশগ্রহণমূলক বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশ পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশন সমাপ্তির আগে তিনি দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলে ১৪ কার্যদিবস ধরে। এই আলোচনার মোট সময় ছিল ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট এবং এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সরকারের আয়-ব্যয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে সদস্যরা মতামত তুলে ধরেন।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মোট ২৭৮টি প্রশ্ন জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর অংশ হিসেবে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং নীতিগত বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সংসদ সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে মোট ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে এসব প্রশ্নের জবাব প্রদান করে। এর মাধ্যমে সংসদীয় জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা আরও জোরদার হয়েছে।

এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্য উপদেষ্টা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়। সংসদের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এসব কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশনজুড়ে দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন। সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট অধিবেশন আইন প্রণয়ন এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। বিল পাস, প্রশ্নোত্তর এবং বাজেট আলোচনা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে। এ ধরনের কার্যক্রম সংসদের কার্যকারিতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অধিবেশন শেষে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রপতির সমাপ্তি-সংক্রান্ত আদেশ পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। আগামী অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আবারও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষমতার লড়াই: কার হাতে এখন আসল নিয়ন্ত্রণ?

১০ বিল পাসের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ সংসদের বাজেট অধিবেশন

Update Time : ১১:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন বা বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়েছে। ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ১০টি বিল পাস করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠনের মাধ্যমে অধিবেশন শেষ হয়েছে। সংসদের কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ ও অংশগ্রহণমূলক বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশ পাঠের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশন সমাপ্তির আগে তিনি দেশ ও জাতির অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাজেট অধিবেশনে মোট ২৬টি কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা চলে ১৪ কার্যদিবস ধরে। এই আলোচনার মোট সময় ছিল ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট এবং এতে ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সরকারের আয়-ব্যয় পরিকল্পনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ নিয়ে সদস্যরা মতামত তুলে ধরেন।

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মোট ২৭৮টি প্রশ্ন জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর অংশ হিসেবে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং নীতিগত বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে সংসদ সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে মোট ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো লিখিত ও মৌখিকভাবে এসব প্রশ্নের জবাব প্রদান করে। এর মাধ্যমে সংসদীয় জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা আরও জোরদার হয়েছে।

এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্য উপদেষ্টা কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়। সংসদের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এসব কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশনজুড়ে দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন। সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট অধিবেশন আইন প্রণয়ন এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। বিল পাস, প্রশ্নোত্তর এবং বাজেট আলোচনা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে। এ ধরনের কার্যক্রম সংসদের কার্যকারিতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অধিবেশন শেষে ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রপতির সমাপ্তি-সংক্রান্ত আদেশ পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। আগামী অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আবারও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।