নতুন সিরীয় সংসদ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে বসে সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘ সংঘাত, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে রাজধানী দামেস্কে নতুন আইনসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই অধিবেশনকে দেশটির রাজনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
রোববার অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার উপস্থিতিতে সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এরপর স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন সংসদের মাধ্যমে ভবিষ্যতের আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নতুন সিরীয় সংসদে মোট ২২০ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছেন। বাকি সদস্যদের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মনোনীত করেছেন। এই মিশ্র কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের প্রায় ১৯ মাস পর এই সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হলো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন প্রশাসন বলছে, আইনসভাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়াই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে আহমেদ আল-শারা সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন কাউন্সিলকে এমনভাবে পরিচালিত করতে হবে যাতে এটি দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সংসদকে সত্য, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সিরিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আসাদ পরিবারের শাসনামলে সিরিয়ার আইনসভাকে অনেকেই কেবল আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন। সে সময় সংসদের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন ছিল। নতুন প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এবার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আইনসভা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সিরীয় সংসদের কার্যক্রম ভবিষ্যতে দেশটির গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অন্যতম পরীক্ষার ক্ষেত্র হবে। সংসদ কতটা স্বাধীনভাবে আইন প্রণয়ন করতে পারে, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতামতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে—এসব বিষয়ই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে নতুন সিরীয় সংসদ শুধু একটি নতুন আইনসভার যাত্রাই নয়, বরং সিরিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেশটির জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল এই সংসদের কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।


























