ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের ড্রোন উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ, যুদ্ধের মাঝেও সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩০

ইরানের ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতীকী চিত্র | ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন উৎপাদন সাম্প্রতিক সময়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা দাবি করেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা থেমে যায়নি। বরং যুদ্ধের চাপের মধ্যেই ড্রোন নির্মাণ সক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান।

শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সঙ্গে, যেখানে দেশটির প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি ও সামরিক উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে। তার দাবি, দেশটির দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে ড্রোন প্রযুক্তিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। দেশটি বিভিন্ন ধরনের সামরিক ড্রোন তৈরি ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের গুরুত্ব বেড়েছে।

তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তেহরান যেখানে নিজেদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে, অন্যদিকে কিছু দেশ ইরানের ড্রোন কর্মসূচিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ইরানও তার সামরিক উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তি বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। কম খরচে নজরদারি ও আক্রমণ পরিচালনার সুযোগ থাকায় বিশ্বের অনেক দেশ এই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ইরানের ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি দেশটির সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ড্রোন উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ, যুদ্ধের মাঝেও সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি

Update Time : ০৭:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইরানের ড্রোন উৎপাদন সাম্প্রতিক সময়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা দাবি করেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা থেমে যায়নি। বরং যুদ্ধের চাপের মধ্যেই ড্রোন নির্মাণ সক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান।

শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সঙ্গে, যেখানে দেশটির প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি ও সামরিক উৎপাদন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন  ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত

জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করার সুযোগ দিয়েছে। তার দাবি, দেশটির দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন  লেবাননে ইসরায়েলি হামলা শিশু নিহত, ইউনিসেফের উদ্বেগ ও ভয়াবহ পরিসংখ্যান

ইরান দীর্ঘদিন ধরে ড্রোন প্রযুক্তিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। দেশটি বিভিন্ন ধরনের সামরিক ড্রোন তৈরি ও উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে নজরদারি, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের গুরুত্ব বেড়েছে।

তবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তেহরান যেখানে নিজেদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে, অন্যদিকে কিছু দেশ ইরানের ড্রোন কর্মসূচিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ইরানও তার সামরিক উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।

আরও পড়ুন  ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তি বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। কম খরচে নজরদারি ও আক্রমণ পরিচালনার সুযোগ থাকায় বিশ্বের অনেক দেশ এই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ইরানের ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি দেশটির সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।