ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান Logo বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চট্টগ্রামের অধীনে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

মেসির গোল হলে ভিনির কেন নয়? ফিফায় ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

ভিনিসিয়ুস

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাতিল হওয়া গোলকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। নিজেদের অভিযোগে তারা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি গোলের ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম এস্তাদাও-এর দাবি, সিবিএফ মনে করছে একই ধরনের দুটি ঘটনায় দুই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল হলেও মেসির ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতিতে গোল বহাল রাখা হয়েছিল। তাই রেফারিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি বলে মনে করছে ব্রাজিল।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ২২তম মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে গোলটি উদযাপনের আগেই ভিএআরের মাধ্যমে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন ম্যাচ রেফারি। পরে তিনি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন এবং জানান, বল দখলের মুহূর্তে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড হেনড্রিক প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছিলেন।

রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বল স্পর্শ করার আগে হেনড্রিক প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেন। সেই ফাউল থেকেই আক্রমণের সূচনা হওয়ায় গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ভিএআরের সুপারিশের পরই চূড়ান্তভাবে গোল বাতিল করা হয়।

এই সিদ্ধান্তে মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রেফারির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, কারণ প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে দারুণ এক হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

এর আগে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন তিনি। তবুও বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে আলোচনা থামেনি ফুটবল বিশ্বে।

সিবিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের মূল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের ভাষ্য, ম্যাচ রেফারি রামোসের এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্রাজিলের খেলোয়াড়দেরই নয়, স্কটল্যান্ড দলের সদস্যদেরও বিস্মিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কটিশ খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া দেখেও বোঝা যাচ্ছিল তারা কোনো ফাউল কিংবা গোল বাতিলের প্রত্যাশা করেননি। তাই এমন একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং রেফারিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নিজেদের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে ৩৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির করা গোলের আগে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ট্যাকল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

ব্রাজিলের দাবি, ম্যাক অ্যালিস্টার বলের লড়াইয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগারকে ফেলে দিলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেই আক্রমণ থেকেই গোল করেন মেসি এবং ভিএআরও সেটি বাতিল করেনি।

সিবিএফের প্রশ্ন, যদি ওই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, তাহলে ভিনিসিয়ুসের গোলের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন ফাউল ধরা হলো। তাদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া ফুটবলের নিয়ম প্রয়োগে অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

ফিফা এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই বিতর্ক বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহার, রেফারিংয়ের মান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলের এই অভিযোগের পর ফিফা বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

মেসির গোল হলে ভিনির কেন নয়? ফিফায় ব্রাজিলের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

Update Time : ০৩:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাতিল হওয়া গোলকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপে। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। নিজেদের অভিযোগে তারা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি গোলের ঘটনাও উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম এস্তাদাও-এর দাবি, সিবিএফ মনে করছে একই ধরনের দুটি ঘটনায় দুই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল হলেও মেসির ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতিতে গোল বহাল রাখা হয়েছিল। তাই রেফারিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি বলে মনে করছে ব্রাজিল।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ২২তম মিনিটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে গোলটি উদযাপনের আগেই ভিএআরের মাধ্যমে ঘটনাটি পর্যালোচনা করেন ম্যাচ রেফারি। পরে তিনি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন এবং জানান, বল দখলের মুহূর্তে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড হেনড্রিক প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছিলেন।

আরও পড়ুন  প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

রেফারির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বল স্পর্শ করার আগে হেনড্রিক প্রতিপক্ষের পায়ে আঘাত করেন। সেই ফাউল থেকেই আক্রমণের সূচনা হওয়ায় গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ভিএআরের সুপারিশের পরই চূড়ান্তভাবে গোল বাতিল করা হয়।

এই সিদ্ধান্তে মাঠেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রেফারির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, কারণ প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে দারুণ এক হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

এর আগে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়েও দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন তিনি। তবুও বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে আলোচনা থামেনি ফুটবল বিশ্বে।

আরও পড়ুন  মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ, নেইমার ছাড়াই চমক

সিবিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের মূল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের ভাষ্য, ম্যাচ রেফারি রামোসের এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্রাজিলের খেলোয়াড়দেরই নয়, স্কটল্যান্ড দলের সদস্যদেরও বিস্মিত করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কটিশ খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া দেখেও বোঝা যাচ্ছিল তারা কোনো ফাউল কিংবা গোল বাতিলের প্রত্যাশা করেননি। তাই এমন একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং রেফারিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নিজেদের অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে ৩৮তম মিনিটে লিওনেল মেসির করা গোলের আগে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি ট্যাকল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

ব্রাজিলের দাবি, ম্যাক অ্যালিস্টার বলের লড়াইয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগারকে ফেলে দিলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে সেই আক্রমণ থেকেই গোল করেন মেসি এবং ভিএআরও সেটি বাতিল করেনি।

আরও পড়ুন  আলাদা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধাক্কা

সিবিএফের প্রশ্ন, যদি ওই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা না করা হয়, তাহলে ভিনিসিয়ুসের গোলের আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন ফাউল ধরা হলো। তাদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া ফুটবলের নিয়ম প্রয়োগে অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

ফিফা এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই বিতর্ক বিশ্বকাপে ভিএআরের ব্যবহার, রেফারিংয়ের মান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিলের এই অভিযোগের পর ফিফা বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না।