সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আবদুল হান্নান পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কাশেমকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা তার জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, মামলার ঘটনা ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিলের। ওই সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কারওয়ান বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের বাপেক্স ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগে হামলাটি হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গাড়িবহরে থাকা কয়েকজন আহত এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।
আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কাশেম এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনজীবীরা তার শারীরিক সমস্যার কথাও আদালতে তুলে ধরেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। পরে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে এখন তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। ফলে মামলার তদন্তে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্য আসামিদের বিষয়ে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



























