মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের হামলায় কুয়েতে আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং সমুদ্রের পানি শোধনাগারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য ও একজন বেসামরিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনার (KUNA) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে হামলার পর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও উদ্ধার অভিযানের সময় কয়েকজন আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১০ হাজার মানুষ পানিসংকটে
এদিকে সংঘাতের আরেকটি প্রভাব দেখা গেছে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হরমুজগান প্রদেশে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বুনজি গ্রামের একটি সমুদ্রের পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ২০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে দেশটির পানি ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোধনাগারটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব এখন শুধু সামরিক স্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ নেই; বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
























